
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে একটি কক্ষে দুই বহিরাগতকে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি গত ২৭ জুলাই ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহিম খলিলের কক্ষে ঘটেছে বলে জানা গেছে।
তদন্তে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা দুই ব্যক্তির নাম মো. ফারহান ও মো. আরমান। তারা নোয়াখালীর বাসিন্দা এবং একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ফারহান ইব্রাহিম খলিলের মায়ের মামাতো ভাই, আর আরমান তার বন্ধু।
জিডির খসড়ায় ইব্রাহিম খলিল দাবি করেছেন, আত্মীয় পরিচয়ে ফারহান তার কক্ষে থাকার অনুমতি নেন এবং পরে বন্ধুকে নিয়ে আসেন। তিনি ক্লাস ও ব্যক্তিগত কাজে বাইরে থাকাকালে কী ঘটেছে, তা জানতেন না; পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে বিষয়টি জানতে পারেন বলে উল্লেখ করেন। ভিডিও প্রকাশের কারণে তিনি মানহানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন এবং নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় জিডি করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এদিকে ভিডিও ধারণকারী তার রুমমেট ইউসুফ আরেফিন রুমেল এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনার পর শহীদুল্লাহ হল প্রশাসন এজিএস ইব্রাহিম খলিলের সিট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে এবং তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি বহিরাগত দুই যুবককেও তদন্তে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হল সংসদ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। প্রভোস্টের পদত্যাগের খবর ছড়ালেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

