জনবল কমাচ্ছে অন্টারিও প্রিমিয়ারের কার্যালয়

জনবল কমাচ্ছে অন্টারিও প্রিমিয়ারের কার্যালয় - the Bengali Times
সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্টারিও সরকারের প্রিমিয়ারের কার্যালয়ে বড় ধরনের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্টারিও সরকারের প্রিমিয়ারের কার্যালয়ে বড় ধরনের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের চিফ অব স্টাফ ট্রাভিস কান কার্যালয়ের ১০টি পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন কর্মী নিয়োগের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রিমিয়ারের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো আরও কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কিছু কর্মকর্তাকে সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক উৎপাদনশীল বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মীকে বিদায়ও দেওয়া হয়েছে। বিদায় নেওয়া সহকর্মীদের অবদানের প্রশংসা করে কান বলেন, সরকারের কার্যক্রমে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং তাঁদের সেবার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করে তোলাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

- Advertisement -

এই ১০টি পদ বাতিলের ফলে অন্টারিও সরকারের বছরে প্রায় ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ ডলার সাশ্রয় হবে। সরকারের মতে, এই অর্থ করদাতাদের অর্থের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। শুধু পদ কমানোই নয়, নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রেও কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন থেকে প্রিমিয়ারের কার্যালয়ে নতুন কোনো কর্মী নিয়োগ দিতে হলে ট্রাভিস কান অথবা মানবসম্পদ বিভাগের ডেপুটি চিফ অব স্টাফের সরাসরি অনুমোদন নিতে হবে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয়তা যাচাই না করে আর কোনো নিয়োগ দেওয়া হবে না।

প্রিমিয়ারের কার্যালয়ে পুনর্গঠনের কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যয় পর্যালোচনা করবেন। লক্ষ্য থাকবে কোথায় আরও ব্যয় কমানো সম্ভব এবং কীভাবে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। যদিও তিনি এখনই কোন কোন মন্ত্রণালয় এই পর্যালোচনার আওতায় আসবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই জনবল হ্রাস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড জানান, প্রশাসনিক পরিবর্তন আনার জন্য তিনি নিজেই ট্রাভিস কানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। ফোর্ড বলেন, সরকারের উচিত নিজেই ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়া। তাঁর ভাষায়, পুরো প্রদেশজুড়ে দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে এবং সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি খাত আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি তাঁর চিফ অব স্টাফকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, যেন প্রশাসনের ভেতর থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের পথ বের করা হয়।

অন্টারিও সরকার দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক সংস্কারের কথা বলে আসছে। প্রিমিয়ারের কার্যালয় থেকেই জনবল কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ সরকার চাইছে দেখাতে যে ব্যয় সংকোচনের নীতি শুধু সাধারণ সরকারি দপ্তরে নয়, সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কার্যালয় থেকেও শুরু হচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ভিন্নমতও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত জনবল কমানো হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে চাপ বাড়তে পারে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও কার্যকারিতাও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, প্রয়োজনীয় জনবল বজায় রেখেই অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো হচ্ছে, যাতে করদাতাদের অর্থ আরও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়।

আগামী দিনে এই পুনর্গঠন যদি অন্যান্য মন্ত্রণালয়েও বিস্তৃত হয়, তাহলে অন্টারিও সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোয় আরও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে এটি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles