
ঘোষণাবহির্ভূত অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান ডিম ও তিলের বীজ থাকার কারণে মন্ট্রিয়লভিত্তিক অনলাইন মিল কিট ও গ্রোসারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুডফুড তাদের দুটি জনপ্রিয় মিটবল মিল কিট বাজার থেকে প্রত্যাহার করেছে। বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কানাডিয়ান ফুড ইন্সপেকশন এজেন্সি। ১১ জুলাই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, সোমবার সিএফআইএ তাদের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো কুইবেকে এবং অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে। তাই যাদের কাছে এই মিল কিট রয়েছে, তাদের কোনোভাবেই পণ্যগুলো ব্যবহার, বিক্রি, পরিবেশন বা অন্য কারও কাছে বিতরণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিএফআইএর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিম্নলিখিত দুটি মিল কিট প্রত্যাহার করা হয়েছে : মিডল ইস্টার্ন-স্টাইল পর্ক মিটবল, ওরজো এবং রোস্টেড সবজির সঙ্গে পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত মিল কিট। টেরিয়াকি বিফ মিটবল (৪২৫ গ্রাম), যার সঙ্গে রয়েছে গাজর, এডাম্যাম ও ভাত। দুটি পণ্যেরই সর্বোত্তম ব্যবহারের তারিখ ১২ জুলাই, ২০২৬।
তদন্তে দেখা গেছে, পণ্যগুলোর লেবেলে ডিম ও তিলের বীজের উপস্থিতির তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। অথচ এই দুটি উপাদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত প্রধান খাদ্য অ্যালার্জেনের মধ্যে অন্যতম। যেসব ব্যক্তি ডিম বা তিলে অ্যালার্জিতে ভোগেন, তাদের জন্য এই ধরনের ঘোষণাবহির্ভূত উপাদান গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অ্যালার্জির কারণে অনেক ক্ষেত্রে ত্বকে ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট, বমি, মুখ ও গলার ফোলাভাব, এমনকি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনও হতে পারে।
সিএফআইএ এই ঘটনাকে ক্লাস ২ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। এর অর্থ, সংশ্লিষ্ট পণ্য গ্রহণ করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে সাধারণত তা জীবন-হানিকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবুও যাদের নির্দিষ্ট খাদ্য অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য ঝুঁকি এড়াতে পণ্যগুলো ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিএফআইএ বলেছে, যাদের কাছে এই ব্যাচের মিল কিট রয়েছে, তারা যেন : পণ্যটি খাবেন না। অন্য কাউকে পরিবেশন বা উপহার না দেন। বিক্রি বা পুনরায় বিতরণ না করেন। সম্ভব হলে ক্রয়স্থানে ফেরত দেন অথবা নিরাপদভাবে ফেলে দেন। যদি কেউ পণ্যটি খেয়ে অ্যালার্জির লক্ষণ অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
মন্ট্রিয়লভিত্তিক গুডফুড কানাডাজুড়ে অনলাইন গ্রোসারি ও মিল কিট সাবস্ক্রিপশন সেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা খাদ্য অপচয় কমানো, টেকসই সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গ্রাহকদের কাছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে সতেজ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
এটি প্রথমবার নয় যে প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে সিএফআইএ গুডফুডের খাদ্য উৎপাদন লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তখন সংস্থাটি জানিয়েছিল, সেফ ফুড ফর কানাডিয়ান রেগুলেশানস-এর আওতায় নির্ধারিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে কোম্পানিটি ব্যর্থ হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও শর্ত পূরণের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে গুডফুড তাদের লাইসেন্স পুনরায় ফিরে পায়।
খাদ্যপণ্যের লেবেলে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের সঠিক উল্লেখ করা শুধু একটি নিয়ম নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি দায়িত্ব। ডিম, তিল, বাদাম, দুধ, সয়া বা গমের মতো উপাদান অনেক মানুষের জন্য মারাত্মক অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের সামান্য ভুলও ভোক্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ধরনের প্রত্যাহার খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করলেও একই সঙ্গে এটি উৎপাদন ও লেবেলিং প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার দিকেও ইঙ্গিত করে। গুডফুড অতীতে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যায় জড়িয়েছে এ কারণে সাম্প্রতিক ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানটির মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভোক্তাদেরও মনে করিয়ে দেয় যে, বিশেষ করে যাদের খাদ্য অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের নতুন কোনো খাদ্যপণ্য ব্যবহারের আগে লেবেল ভালোভাবে পরীক্ষা করা এবং সরকারি প্রত্যাহার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির প্রতি সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

