যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত ভ্যানকুভারের এক ব্যক্তি ফ্রান্সে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত ভ্যানকুভারের এক ব্যক্তি ফ্রান্সে গ্রেপ্তার - the Bengali Times
তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার আরও তিনজনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে

আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার এবং শিখ নেতা হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে চলমান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পশ্চিম ভ্যানকুভারের বাসিন্দা গারিন্দার দিওকে ফ্রান্সে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানিয়েছে, গত ৭ জুলাই তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আরসিএমপির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দিওর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কোকেন ও হেরোইন সংগ্রহ করে সেগুলো কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্কের কাছে সরবরাহ করতেন। তদন্তকারীদের দাবি, এই মাদক পাচার কার্যক্রম ছিল বৃহত্তর আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের একটি অংশ, যার সঙ্গে একাধিক অপরাধী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। দিওকে গ্রেপ্তারের মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে, ভারত-সংশ্লিষ্ট তিনটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় শিখ নেতা হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

- Advertisement -

তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার আরও তিনজনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের আবেদন ব্রিটিশ কলাম্বিয়া সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে এই মামলার পরিধি শুধু কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত তদন্তে পরিণত হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতে কারাবন্দী কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশনয় এবং তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা হারদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুন মাসে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরের একটি গুরুদুয়ারার বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয় নিজ্জরকে। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। কানাডা সরকার অভিযোগ করেছিল, হত্যার পেছনে বিদেশি সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। যদিও ভারত সরকার শুরু থেকেই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

গারিন্দার দিওর গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ধারণা, তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং সম্ভাব্য জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্র, সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আদালতে অভিযোগগুলোর বিচার সম্পন্ন হয়নি। ফলে গারিন্দার দিওসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনগতভাবে এখনও প্রমাণিত হয়নি। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles