-14.8 C
Toronto
শুক্রবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২২

রেজিনা-অটোয়া

- Advertisement -
ছবি/এয়ার কানাডা

একই দেশে থাকি অথচ ২ বছর হ’ল ছেলে রক্তিমের সাথে দেখা হয়না। অনেকের মতো আমাদের বাপ-বেটার অবস্থান দূরত্বও কম নয় তাই শত ইচ্ছা থাকলেও দেখা হওয়ার সুযোগ কম। এই ২ বছরের মধ্যেই সে সংবাদ দিলো-আব্বা আমি কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছি। ইচ্ছা থাকলেও অটোয়া হাসপাতালে গিয়ে আমার দাদুভাইকে দেখে আসবার সুযোগ হযনি আমার। তাই এবার প্রতিজ্ঞ হলাম।

সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঠিক করলাম অটোয়া যাবো। এক শনিবার Regina airport এ গাড়ী রেখে উড়াল দিলাম। আমার যাত্রা পথে ছিলো টরন্টো এয়ারপোর্ট তারপর অটোয়া। টরন্টো এয়ারপোর্টে স্মৃতির পশরা খুলে কিছু সময় কাটালাম। এই সেই টরন্টো যেখানে জীবনের টানা ১০ টি শীত, বসন্ত কেটে গেছে । আবার প্লেনে উঠলাম। অটোয়ার আকাশে আসতেই আমার সেল ফোনে মেসেজ এলো-আব্বা আমি ১৩ নং গেটে গাড়ি নিয়ে আছি।

- Advertisement -

ছেলেকে বললাম আগে আমাকে হোটেলে নিয়ে চলো। আমার লাগেজ রেখে তারপর বাপ বেটা বেরিয়ে পড়লাম। পাতা ঝরা দিনের বিকেলটা তখন পড়ন্ত দুজনা গিয়ে বসলাম একটি শর্মার দোকানে রাতের আহারে শর্মা খেলাম, গল্প করলাম। দোকানী তার পরিচিত। আসবার সময় তাকে বললো- বাবা বলেছে তোমার শর্মা মজার। দোকানীকে ছেলেকে দেখিয়ে বললাম ও আমার কথা তোমায় সঠিক বলেনি।–ওইতো আমার বাবা। দোকানী হাসলো।

বললাম তোমার বউ, মেয়েকে নিয়ে কাল সকালে এসো-আমরা একসাথে লাঞ্চ করবো। সময়মতো সে হাজির। গাড়ীর ভেতর ওর জাপানী বউ, মেয়ে-আমার দাদু ভাই। একটা শপিং মলে গেলাম। দাদু ভাই তখনও ঘুমিয়ে। আমি দেখছি দেখা যেন ফুরায়না আমি কি যেন খুজছি আমার অন্তর আত্মায় শীতল স্রোত ধারা বইছে। দাদু ভাই এক সময় চোখ খুললো। সে স্বাভাবিক। আমি তার কোন পরিবর্তন দেখছি না। আমি যে বিশষ কেউ সে সেটি ভাবছে না বলে মনে হলো রক্তিম ছিলো তার মেয়ের দৃষ্টির আড়ালে। এক পর্যায়ে আমাকে বললো-আব্বা ও কিন্তু বুঝতে পারছেনা তুমি নতুন কেউ। এবার তার কথার সময় মেয়ে কেদে উঠলো। তাকে কোলে তুলে নিলাম। আমার ঘাড়ে মাথা রাখলো। মনে হলো কত দিনের অভিমান তার অন্তরে। একটা খামে ১০০০ হাজার ডলার রেখেছি দাদু ভাইএর গিফট্ সেটাই বৌমার হাতে দিয়ে বললাম-তোমাদের পচ্ছন্দ মতো সোনা দানা কিনে নিয়ো। শুধু দাদু ভাই এর একার নয় তোমারও ভাগ আছে সেখানে-তুমি তার মা।

আমার বিনয়ী ছেলে বারবার বলতে লাগলো আব্বা তুমি অনেক টাকা পয়সা খরচ করে এখানে এসেছো পরে দিয়ো। বললাম-এখনই সময়, আমাদের যখন যেটি করা দরকার তখনই সেটি করা উচিত পরে আর সেই সময় পাওয়া যায় না। বৌমা-ছেলে এবার বললো ঠিক আছে এই অর্থ আমরা ওর ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিলাম। আমি খুশী।

ছেলের সাথে অনেক কথা হলো। চমৎকার বুঝদার মানুষ। একটি ছোট্ট সংসারের দায়িত্ব তার কাধে। মনে হ’লো আমি আমার বাবা সৈয়দ আব্দুল হালীমের সাথে কথা বলছি। এই বয়সে সে আমার বাবার মতো প্রচুর বই পড়েছে। জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি আরো দৃড়। মাত্র ৩ রাতের জন্য অটোয়া এসেছিলাম। দুটো রাত চলে গেল। কাল চলে যাবো। রক্তিম রাত ১১ টা পর্যন্ত আমার রুমে। দুজনে বসে আমরা গল্প করছি। বললো-আব্বা সকালে আমি তোমাকে এযারপোর্টে নামিয়ে দিয়ে আসবো। বললাম তোমার মেয়েকে আর তার মাকে অত সকালে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে এসোনা। আমি আবারও আসবো ওদের দেখতে।

একটু আগেই এসেছে সে। হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে পড়লাম। পথে এক স্থানে গাড়ী থামালো। বললো- এখনো অনেক সময় আছে একটু বসি। বুঝতে পারি আমাকে ছাড়তে ওর ইচ্ছা করছে না। এক সময় তাকে বললাম-তোমার মনে পড়ে ধানমন্ডি গভ:বয়েজ স্কুলে যখন পড়তে একবার মাজা পানিতে তোমাকে ঘাড়ে করে স্কুলে নামিয়ে দিয়েছিলাম বৃষ্টিস্নাত এক দিনে। ছেলে হাসে, বললাম এখনতো আমর সময় হয়েছে তোমার ঘাড়ে ওঠার।

যথা সময়ে এয়ারপোর্টে সে আমাকে নামিয়ে দিলো। লাগেজটি বের করে পাশে এনে রাখলো। কথা তার ফুরায় না। গাড়ীতে গিয়ে উঠে বসেছে যাবার জন্য। আবার নেমে এলো কাছে, বললো- আব্বা তোমার পায়ে হাত দিয়ে একটু সালাম করি। বললাম করো। সে সালাম করলো। আমি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম।

ইনুভিক, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles