
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জাহাঙ্গীর আলম জনি (৪১) নামে এক যুবককে গলা ও দুই হাতের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নিকে (৪৫) রক্তমাখা ছুরিসহ আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ জুন) দেলপাড়ার চানাচুর ফ্যাক্টরি গলির নিজ বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর আলম জনি ঢাকার কদমতলী থানার ঢালকানগর বৈশাখী হাউজিং এলাকার আব্দুস শাকুরের ছেলে। তিনি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলের বারে চাকরি করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্নির দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন জনি। এর আগে তিনি মুন্নির প্রথম স্বামীর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। সেই সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় পাঁচ বছর আগে ব্যবসায়ী স্বামীর সংসার ছেড়ে মুন্নি জনিকে বিয়ে করেন। পরে তারা ফতুল্লার দেলপাড়ায় বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। তাদের দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর জনি ঢাকার একটি হোটেলে চাকরি শুরু করেন। সম্প্রতি অন্য এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জের ধরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর পুলিশ বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতি ও ছুরি জব্দ করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্নি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের দাবি, ঘটনার আগে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে অচেতন করা হয়। পরে গভীর রাতে চাপাতি দিয়ে গলা কেটে এবং দুই হাতের রগ কেটে তাকে হত্যা করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, পরকীয়া ও দাম্পত্য কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন মুন্নি। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

