
জাপানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীর মরদেহ চিড়িয়াখানার ইনসিনারেটরে (বর্জ্য ভস্মীকরণ-যন্ত্র) ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই চিড়িয়াখানার একজন কর্মী। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। বর্তমানে চিড়িয়াখানাটি বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, উত্তর জাপানের আসাহিকাওয়া শহরে আসাহিয়ামা চিড়িয়াখানাটি গ্রীষ্মকালীন মৌসুম উপলক্ষে বুধবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ছিল। জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ছুটি গোল্ডেন উইক-কে সামনে রেখে তিন সপ্তাহের রক্ষণাবেক্ষণ শেষে এটি চালু হওয়ার কথা ছিল।
তবে তদন্তের কারণে চিড়িয়াখানাটি শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ওই কর্মী পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, তিনি তার স্ত্রীর মরদেহ চিড়িয়াখানার ইনসিনারেটরে ফেলেছেন। এরপর পুলিশ চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে তল্লাশি চালায়। উল্লেখ্য, এই ইনসিনারেটরটি সাধারণত মৃত প্রাণীর দেহ ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত আসাহিয়ামা চিড়িয়াখানা জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এর বিশেষ ধরনের খাঁচা-যেমন কাচের গম্বুজ ও ওপরে ঝুলন্ত কাঠামো-দর্শনার্থীদের প্রাণীগুলোর খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। প্রতি বছর এখানে ১০ লাখের বেশি দর্শনার্থী ভিড় করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই কর্মীর স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর এক বন্ধু পুলিশে অভিযোগ করেন। এরপর থেকেই তাকে খুঁজতে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আসাহিকাওয়া শহরের মেয়র হিরোসুকে ইমাজু মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটিকে ‘অভূতপূর্ব সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি।”
কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে চিড়িয়াখানাটি পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ রাখা হতে পারে।
তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত দর্শনার্থীদের জন্য চিড়িয়াখানা খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

