দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল 'সংযোগ চালু উদযাপন'
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সি-মিই-ইউ-৫ কনসোর্টিয়ামের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি উদযাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবমেরিন কেবল কোম্পানি বিএসসিসিএলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি সচিব আবদুস সালাম খান। তবে তিনি বলেন, 'এ উদযাপনকে কোনোভাবেই বাণিজ্যিকভাবে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনের উদ্বোধন বলা যাবে না। বরং এটিকে পরীক্ষামূলক সংযোগ চালু বলা যেতে পারে।'

এদিকে, বিএসসিসিএল সূত্র জানায়, দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল থেকে ১৫০০ জিবিপিএস সক্ষমতার ব্যান্ডউইথ পাওয়ার কথা থাকলেও প্রাথমিকভাবে ২০০ জিবিপিএসের বেশি পাওয়া যাবে না। ১৫০০ জিবিপিএস পর্যন্ত পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

ইস্তাম্বুলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পর্কে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (ইস্তাম্বুল সময় বিকেল ৫টা) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সি-মিই-ইউ-৫ কনসোর্টিয়ামের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এই ওয়েবসাইটে থাকা সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিবৃতি অনুযায়ী গত ১৬ জানুয়ারি হনুলুলু হাওয়াইতে সি-মিই-উই-৫ প্রকল্পের উদ্বোধনের কথা বলা হয়।

এ ছাড়া দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে পরীক্ষামূলকভাবে সংযুক্ত হওয়ার ঘটনা দেশের জন্য বড় অর্জন বিবেচিত হলেও এ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্যই বিএসসিসিএল কিংবা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়নি।

অথচ এর আগে প্রায় এক মাস ধরে সাবমেরিন কেবল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগ উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া গত ২২ নভেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সভাপতিত্বে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা-কুয়াকাটা ট্রান্সমিশন লিংক স্থাপনের সম্পূর্ণ কাজ শেষ এবং ২১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগ প্রদানের ব্যবস্থা রাখার জন্য চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কিন্তু দেশের জন্য এত বড় একটি ঘটনা উদযাপনে কিংবা এ সম্পর্কে তথ্য জানাতে কোনো উদ্যোগই নেয়নি বিএসসিসিএল। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগ চালুর এই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতেও কোনো আয়োজন রাখা হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এ সময়ে নূূ্যনতম একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইস্তাম্বুল থেকে সংযোগ চালুর মুহূর্তটিও দেশবাসীকে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়নি।

সমকালের কুয়াকাটা প্রতিনিধি জানান, দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগ চালু সম্পর্কে কোনো ধরনের আয়োজন চোখে পড়েনি। সাংবাদিকরা প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সংযোগ চালু হচ্ছে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। এ কারণে এখানে আয়োজনের কিছুই নেই।'

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএসসিসিএলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ঢাকা-কুয়াকাটা ট্রান্সমিশন লিংক চালু হওয়ার পর দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের বাণিজ্যিক উদ্বোধন করা হবে। তখন বড় আকারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে এর উদ্বোধন করেন তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএসসিসিএলের পক্ষ থেকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০০৬ সালের ২১ মে দেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল সংযোগ চালু উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সে সময় সিঙ্গাপুর থেকে কক্সবাজারে সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনে সংযোগ চালু ও কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ট্রান্সমিশন লিংকের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ পাঠানো একইসঙ্গে উদ্বোধন করা হয়। এবার এখন পর্যন্ত ঢাকা-কুয়াকাটা ট্রান্সমিশন লিংক চালু না হওয়ায় দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল থেকে ঢাকা হয়ে দেশের ভেতরে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ কবে শুরু হবে তারও নিশ্চিত সময়সীমা কেউই বলতে পারছেন না।

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:৫২:২১