বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতাকারীদের মন্ত্রী হতে দেখে কষ্ট পেয়েছি: ফারুক
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট


বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতাকারী জাসদ নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে তাদের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী হতে দেখে দুঃখ পাওয়ার কথা জানালেন নতুন সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান, যিনি চিত্রনায়ক ফারুক হিসেবেই সবার পরিচিত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বৃহস্পতিবার ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে নিজের বেদনাবোধের কথা বলেন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পাওয়া ফারুক। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম'র।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর মুখের ওপর অনেকে অনেক সময় বেয়াদবি করেছে। এই দেখতে দেখতে যখন ১৯৭৪ সাল এল, চুয়াত্তরের এই ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন যে, আপনারা যে রক্ত দিয়েছেন এই রক্তের ঋণ আমি শোধ করে যাব। আপনারা আমাকে একটু সময় দেন।

“এই মানুষটির দিকে তখন আমরা তাকিয়ে দেখলাম না।”

তখন জাসদের ভূমিকা তুলে ধরে ফারুক বলেন, “আমি ইনু (হাসানুল হক ইনু) সাহেবকে বলেছিলাম, আমার পকেটে বাহাত্তরের ইতিহাস এবং পঁচাত্তরের ইতিহাস আছে। আপনি বেশি কথা বললে টেনে খুলে দেখিয়ে দেব। আমরা ভয় পাই না।

“দেখেন আপা (শেখ হাসিনা) কত বড় হৃদয়ের মানুষ, বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তিনি কাকে মন্ত্রিত্ব দেননি? সবাইকে দিয়েছেন। রব (আ স ম রব) সাহেবকে দেননি?

“আমরা কষ্ট পেয়েছি, এই লোক বার বার বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করেছেন। তারপরও আপার কথা মানতে হয়, মেনে নিয়েছি।”

শেখ হাসিনার ১৯৯৬ সালের সরকারে মন্ত্রী ছিলেন রব। ইনু গত সাত বছর শেখ হাসিনার সরকারে তথ্যমন্ত্রী থাকার পর এবারের সরকারে স্থান পাননি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ থেকে একটি অংশ বেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর চরম বিরোধিতায় নেমেছিল। তাদের তৎপরতা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের পথ তৈরি করে দিয়েছিল বলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করেন। তবে জাসদ নেতারা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলে আসছেন, তাদের বিরোধিতা ছিল রাজনৈতিক, কোনো ষড়যন্ত্রে তারা ছিলেন না।

ফারুকের কালের ছাত্রলীগ নেতা ও ডাকসুর তৎকালীন ভিপি রব এবার বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচনে নেমেছিলেন। এই জোট গঠনের মূল উদ্যোক্তা আওয়ামী লীগের এক সময়ের নেতা ও বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল হোসেন। কামাল হোসেনের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির কথা মনে করিয়ে দেন ফারুক। পাকিস্তানে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লল্ডন হয়ে এদিন স্বাধীন দেশে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস পাকিস্তানে থাকা কামালও একইসঙ্গে ফেরেন।

সেদিনের কথা তুলে ধরে ফারুক বলেন, “ড. কামাল হোসেন ওই সারা দিন কেঁদেছেন। কিন্তু তিনি যুদ্ধ তো দেখেননি, বায়ান্ন দেখেননি, আটচল্লিশ দেখেনি। তিনি কী করে জানবেন? তিনি কেঁদেছেন তার স্বার্থের জন্য। এই লোকটি তার মাথায় ধানের ছড়া নেবেন, কল্পনাও করতে পারিনি।”

গত শতকের ষাটের দশকে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় রাজনীতির মাঠে নিয়মিত ছিলেন ফারুক। মাঠে ছিলেন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও। একাত্তরে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের পর চিত্রনায়ক ফারুক হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দূরে সরে গেলেও এবার ঢাকার গুলশান-বনানী-সেনানিবাস এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে ফিরলেন তিনি।

প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে অগুনতি মানুষের শুভেচ্ছাসিক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ফারুক। তিনি বলেন, “আমরা মনে হয় না বাংলাদেশে এত ফুল কোনো সংসদ সদস্য পেয়েছেন। কল্পনাও করা যায় না, প্রায় ৩০ হাজার ফুলের তোড়া আমাদের দেওয়া হয়েছে। আমাকে যে মানুষ কত ভালবাসে, তা কল্পনারও বাইরে।”

আগামীতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ফারু বলেন, আমরা একসাথে কাজ করব, এটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।

“আমি সারা জীবন চলচ্চিত্রের পর্দায় মানুষের কথা বলে এসেছি। কারণ হিরোরা সব সময় মানুষের কথাই বলে। হিরোর চরিত্র তৈরি করা হয় যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে।”

‘বাঙালি সাংস্কৃতিক বন্ধন’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে ফারুকই সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য কাজী রোজি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক মনোরঞ্জন ঘোষাল, নাট্যব্যক্তিত্ব এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ, চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও রিয়াজ  প্রমুখ।



 


১০ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৯:১৯:৩৮