এ বছর আমি ৫২টি বই পড়ে যা শিখেছি
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
এ বছর আমি সঠিকভাবে খাবার গ্রহণ বা শরীর চর্চার মতো অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বরং নিজের উন্নতির জন্য বই পড়ার পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। 

ব্যর্থ সাংবাদিক রোরি গিলমোর এর ভাষায়, “আমি দুটি জগতে বাস করি।এর একটি হলো বইয়ের জগত। ”

অল্প বয়স থেকেই আমি নিজেকে বই দিয়ে ঘিরে রাখতাম। তবে আমি রোরি গিলমোর এর মতো মাত্র ১৬ বছর বয়সেই প্রাউস্ট পড়িনি। তবে আমি আমার কলেজ ভর্তির রচনা লিখেছি নেভিলে লঙবোটোমকে নিয়ে। 

এরপর কলেজে গিয়ে কীভাবে পড়তে হয় আমি তাই ভুলে গেছি। তবে বই থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাইনি। ইংরেজিতে মেজর হওয়ার কারণে প্রতি সপ্তাহে আমাকে অন্তত কয়েকশ পৃষ্ঠা পড়তে হত। কলেজ থেকে বের হওয়ার প্রাক্কালে আমি ইতিমধ্যেই কয়েকশ বই এবং নিবন্ধ পড়ে ফেলেছি। কিন্তু খুব অল্প সংখ্যকই আমার বিস্তারিত মনে আছে। 

২০১৬ সালের শুরুতে আমি পুনরায় আমার মূলে ফিরে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করি এবং বছরজুড়ে ৫২টি বই পড়ে শেষ করার লক্ষ স্থির করি। 

এই প্রথমবারের মতো আমি নতুন বছরের শুরুতে করা প্রতিশ্রুতি পালনে সক্ষম হই। ডিসেম্বরের ৯ তারিখের মধ্যে আমি ৫২টি বই পড়ে শেষ করি। এ থেকে আমি যা শিখি:

১. বই হলো আয়নার মতো

বই শুধু আপনি যা দেখতে সক্ষম তারই প্রতিফলন করবে। কিন্তু পড়ার কাজটির এখনো সত্যিকার রুপান্তরমূলক মূল্য আছে। এ বছর আমি সেরা যে বইটি পড়ি সেটি আমার ত্রুটিগুলোর ওপর আলোকাপাত করেছে। এতে আমাকে দেখানো হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ, স্বার্থপর, ভাঙ্গা চরিত্র। আর আমিও নিজের মধ্যে সেসব খুঁজে পাই। এই আত্মসচেতনতা আমার ব্যক্তিগত এবং এবং পেশাগত উভয় জীবনেই প্রভাব ফেলে। আর প্রকৃতপক্ষে গবেষণায়ও দেখা গেছে, যেসব কর্মীর আত্মসম্মানবোধ উচ্চতর তাদের দলগত পারফর্মেন্স ভালো। এদের সিদ্ধান্তের গুনগত মান থেকে শুরু করে সংঘর্ষ ব্যবস্থাপনা সবই ভালো হয়। 

২. বই পড়ার ফলে আমি আরো বেশি সহানুভূতিশীল হয়েছি

গবেষণায় দেখা গেছে, কথাসহিত্য পড়া মনের উন্নত তত্বের সঙ্গে যুক্ত। এর ফলে সহানুভূতি এবং আবগেগত বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ঘটে। আমি দেখতে পাই জটিল, মিশ্র মানবিক আখ্যান আমাকে অন্য লোকদের অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতার প্রতি আমাকে আরো সংবেদনশীল করেছে। 

৩. চেষ্টা না করা পর্যন্ত আপনি নক করবেন না

এটা হয়তো আপনাদের সকলের জন্যই একটা বিস্ময়ের বিষয় হতে পারে। কিন্তু আমি কোনো ক্রীড়ামোদি মেয়ে নই। আমি একটি ফুটবল ম্যাচ শেষ পর্যন্ত দেখতি পারি না। কিন্তু দ্য ব্লাইন্ড সাইড দেখার পর আমি আপনাদেরকে বাম সাজসঁরজাম অবস্থানের বিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারব। যখন শিকাগো কাবস ওয়ার্ল্ড সিরিজে জয় লাভ করে দেশের বাকী অংশের সঙ্গে আমিও উল্লাসে ফেটে পড়ি। কিন্তু তাদের বিজয় এতে বেশি অর্থ বহন করে কারণ মানিবল আমাকে শিখিয়েছে থিও এপস্টেইন যে খেলাটি খেলে তা। 

৪. বইপড়া সবসময় বাস্তবতা থেকে পালানো হওয়া উচিৎ না

আমি মনে করি আমরা সকলেই একমত হব যে, ২০১৬ সাল ছিল একটি অস্থির বছর। ফলে অনেক লোকই বাস্তবতা থেকে পালানোর জন্য বইকে একটি উপায় হিসেবে অবলম্বন করেছেন। কিন্তু বই পড়ে আমি এ বছরের উপচে পড়া ঘৃণা, রাগ বা হৃদয়ভাঙ্গা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পারিনি। তবে বই আমাকে সহাবস্থানের একটি পদ্ধতি শিখিয়েছে। বই পড়ে আমি সংকটকালের মডেল হতে পারে এমন চরিত্র দেখেছি। যারা দয়া এবং শক্তি প্রদর্শন করেন। আর ও চরিত্রগুলো থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে আমি বাস্তব জীবনের সংকটের মোকাবিলা করি। 

৫. আমার পড়ার সঙ্কল্প অনেক বেশি অর্জনযোগ্য ছিল

বই পড়ার মতো কোনো কিছুতে মনোযোগ দেওয়া একটি পরিষ্কার বিজয়। প্রথমত, এটা আপনার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে “স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ” এর মতো অস্পষ্ট ধারণা থেকে বাস্তব কিছু একটার দিকে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। 

দ্বিতীয়ত, আপনি সহজেই আপনার অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারবেন। 

আর বই পড়ার ক্ষেত্রে শুধু কতটা পরিমাণ পড়া হলো সেটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। জ্ঞানের প্রসারের চেয়ে বরং জ্ঞানের গভীরতা অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। 

সূত্র: দ্য হাফিংটন পোস্ট

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৮:৪১:৪৭