খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ, সাফল্যের ২৭ বছর
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
আজ ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসকে সাজানো হয়েছে । রাতে ভবনগুলো আলোকোজ্জ্বলে বর্ণিল শোভা পাচ্ছে। নেওয়া হয়েছে শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের নিরলস প্রচেষ্টা ও দীর্ঘদিনের আন্দোলন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৯০ সালের জুন মাসে জাতীয় সংসদে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০’ পাশ হয়, যা গেজেট আকারে প্রকাশ হয় ওই বছর ৩১ জুলাই। ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ৪ টি ডিসিপ্লিনে ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। ১৯৯১ সালের ৩০ আগস্ট প্রথম ওরিয়েন্টেশন এবং ৩১ আগস্ট ক্লাশ শুরুর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়। পরে একই বছরের ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ২০০২ সালের ২৫ নভেম্বর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয় প্রথম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এরই ধারাবাহিকতায় সেই থেকে প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিক সাফল্যের ২৭ বছর পূর্ণ করলো।বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি স্কুল (অনুষদ) ও ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। এখানে মোট ২৮টি ডিসিপ্লিনে (বিভাগ) শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ব্যাচেলর ডিগ্রি, ব্যাচেলর অব অনার্স ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি, এম ফিল এবং পিএইচডি প্রদান করা হয়। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীন মাস্টার অব এডুকেশন (এমএড) এবং পোস্টগ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন(পিজিডিএড) প্রোগ্রাম চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দি সুন্দরবনস (সিআইএসএস) কে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রিসার্চ সেল, মডার্ণ ল্যাংগুয়েজ সেন্টার ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণার মান বিশ্বমান অর্জনে সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন টিচিং এন্ড লার্নিং (সিইটিএল) এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা ৪শতাধিক। ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে প্রায় সাত হাজার। এছাড়া কর্মকর্তা রয়েছেন আড়াই শতাধিক এবং কর্মচারি রয়েছে দুই শতাধিক। শিক্ষাকার্যক্রমের গত ২৭ বছরে ২৩ টি ব্যাচে থেকে উত্তীর্ণ গ্রাজুয়েট সংখ্যা ১০ সহস্রাধিক। যারা দেশে-বিদেশে দক্ষতা, সুনাম ও সাফল্যের সাথে নানা পেশায় কাজ করছেন। দেশের তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার বিকাশে স্থানীয় সম্পদ আহরণ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন জনসম্পদ সৃষ্টি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধির সোপানে এগিয়ে নেয়া এবং সম্ভাবনার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার কাজ এগিয়ে চলেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা সাফ্যল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে অগ্রসর হচ্ছে তার অভীষ্ট্য লক্ষ্যে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রাক্কালে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান দেশবাসীসহ খুলনার সর্বস্তরের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে আমরা সর্বাতত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস প্রকৃতঅর্থে বিগত সময়ের কার্যক্রম মূল্যায়ণের দিন। আমাদেরকে অতীতের অভিজ্ঞতায় বর্তমানের প্রচেষ্টায় আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। চলতি প্রায় দুইশত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্ত বায়িত হলে ২০২১ সালের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যমত শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পূর্ণাঙ্গরূপ পরিগ্রহ করবে। তিনি আরও বলেন দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন দিক-নির্দেশনা দিতে হবে- এ বিষয়টি ধারণ করেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অভীষ্ট্য লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নিরবিচ্ছিন্নভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষাকার্যক্রমের ২৭বছর পূর্তি নিঃসন্দেহে দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ অর্জন। এই সময়ে শিক্ষা গবেষণাসহ বিভিন্ন দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সুদৃঢ় ভিত্তি রচিত হয়েছে তা আগামী দিনের সাফল্যের সোপান বেয়ে সামনে এগিয়ে যেতে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০৮:৪৮:৫১