ভিন্ন ধারার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার এক অনন্য আয়োজনে সঞ্চারী
অজন্তা চৌধুরী
অ+ অ-প্রিন্ট
২৬ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যা  ৭.৩০ মিনিটে মিসিসাগায় অবস্থিত ওয়েস্ট  মিনষ্টার ইউনাইটেড চার্চে  অনুষ্ঠিত হলো সঞ্চারীর একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে  একটি ভিন্ন ধারার সাংস্কৃতিক আয়োজন । পিনপতন নীরবতায় দর্শক উপভোগ করলেন  একটি  ভিন্ন ধারার অনুষ্ঠান যেখানে  শুধু সুর, বাণী, আবৃতি, নৃত্যের ছন্দ,  এবং সেতারের  মিষ্টি ছোঁয়ায়  একটি অন্যরকম সন্ধ্যা তাঁদের  মনের মণিকোঠায়  চরম মমতায় লালন করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চারীর একনিষ্ঠ সদস্য শাহজাহান  কামাল অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব তুলে দেন অজন্তা চৌধুরীর হাতে। শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চায় সঞ্চারীর যে ধারা তার  কিছুটা  ভূমিকা অজন্তা তুলে ধরেন তাঁর  সূচনা কথাতে, শুরু হয় অনুষ্ঠান সমবেত সংগীতের মাধ্যমে, এতে অংশ নেন সঞ্চারীর সদস্য শাহজাহান  কামাল , আতাউল গনি , শওকত হোসেন, সূচনা বড়ুয়া, রেহানা রহমান , বেনু রেজা, ইভা গনি এবং লাভলি। এর পরে মঞ্চে নৃত্যের রিনিঝিনি তালে নৃত্য পরিবেশনায় মঞ্চ আলোকিত করেন নৃত্যশিল্পী তাপস দেব এবং চিত্রা দাস। দিলারা নাহার বাবুর শ্রুতিমধুর কবিতা আবৃত্তি  ছিল অনুষ্ঠানের আরো একটি ভিন্ন সংযোজন। টরোন্টোর গুণী ব্যক্তিত্ব এবং গর্ব  বিশিষ্ট লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক একইসাথে সঞ্চারীর একজন নিবেদিত প্রাণ সদস্য  হাসান মাহমুদকে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে  সম্মাননা জানানো হয় সঞ্চারীর পক্ষ থেকে বিরতির ঠিক আগে, এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় হাসান মাহমুদের স্মৃতিচারণমূলক কথাতে এবং পরবর্তীতে তাঁর কবিতার পংক্তিমালায়। এমন একজন গুণী মানুষের কাছে থেকে অনেক কিছু আমাদের এখনো শেখার আছে এমনি কথার মাঝে অনুষ্ঠানের বিরতি টানা হয়। বিরতির পরে সঞ্চারীর সদস্য এবং সংগীত শিল্পী শাহজাহান  কামাল এবং আতাউল গনি সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের ভরাট কণ্ঠে আবারো সবাই সংগীতের সুরে আরো একবার মোহাবিষ্ঠ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে আমন্ত্রিত সংগীত শিল্পী পর্বে টরোন্টোর গুণী সংগীত শিল্পী সূচনার বড়ুয়া, টিনা  কিবরিয়া এবং শিখা রউফ এর  মিষ্টি কণ্ঠে এবং  নিখুঁত গায়কীতে দর্শক শ্রোতা মুগ্ধতার মায়াজালে  জড়িয়ে পড়েন। সঞ্চারী মানেই ভিন্নতার ছোঁয়া, এরই আলোকে এবারে আমন্ত্রণ জানানো হয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সেতার  বাদক ইরশাদ খানকে। ইরশাদ খান তাঁর আঙ্গুলের জাদুতে সেতারে  যে ঝড় তোলেন  তাতে  অবাক  বিস্ময়ে চমকিত  দর্শক।  ইরশাদ খানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য যা তাঁকে সবার থেকে আলাদা করেছে তা হলো সেতারের  সাথে কণ্ঠ সংযোজন। সাধের লাউ থেকে শুরু করে ওকে আজ চলে যেতে বলনা সহ অনেক পরিচিত গানের নির্বাচনে মুগ্ধ দর্শক যখন বুঁদ হয়ে আছে ঘড়ির কাঁটা  তখন অনুষ্ঠান সমাপ্তির পথে।  অনুষ্ঠানে তবলায় ঝড় তুলেছেন  ভারতের বিশিষ্ট তবলা বাদক শ্রী অশোক দত্ত, কী-বোর্ডে এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন টরোন্টোর গুণী সংগীত তারকা মাহবুবুল হক।  অনুষ্ঠানের আরেকটি বাড়তি আকর্ষণ ছিল দুইটি ঋতুকে ঘিরে শৈল্পিক আদলে তৈরী করা মঞ্চটি, মঞ্চটি নির্মাণ করেছেন ফারজানা নুশা আহমেদ এবং ফাহমিদা তিশা আহমেদ। 

টরোন্টোতে এমন একটি শুদ্ধ সংগীতের অভিপ্রায়ে সঞ্চারীর একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কে ঘিরে আয়োজিত  ভিন্ন মাত্রার সন্ধ্যাটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে রইবে এবং পরবর্তী অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় থাকবে দর্শক এমন কিছু বস্তুনিষ্ঠ মন্তব্যের রেশ নিয়েই ঘরে ফেরেন দর্শক।ভিন্ন ধারার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার এক অনন্য আয়োজনে সঞ্চারী

৩০ আগস্ট, ২০১৭ ০৯:০৯:৩২