
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। আরাদ শহরে চালানো এক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৮৮ জন। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ।
প্রাথমিকভাবে অর্ধশতাধিক আহতের খবর পাওয়া গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলায় অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানায়, ইরানের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আরাদের একটি আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। এতে শহরের কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। আহতদের মধ্যে একটি পাঁচ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে, যার অবস্থা গুরুতর।
হামলার পর শহরের একটি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, এবং দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
শুধু আরাদ নয়, ডিমোনা শহরেও হামলা চালিয়েছে ইরান। এই শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে বলে জানা যায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেখানেও একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও গবেষণাকেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, ইসরাইলের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেন ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিমানবাহিনী। জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করতে অন্তত দুটি প্রচেষ্টা নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়।
হামলার পর পুরো দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আরাদ ও ডিমোনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীরে ক্লাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, উদ্ধার ও জরুরি সেবা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

