
দীর্ঘদিনের পূর্ণমন্ত্রী ও কানাডার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড সামনের সপ্তাহগুলোতে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
সোমবার দেওয়া ওই পোস্টে ফ্রিল্যান্ড বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের জন্য একটি নতুন, অবৈতনিক দায়িত্ব গ্রহণের লক্ষ্যে তিনি বর্তমানে ইউক্রেন পুনর্গঠনে কানাডার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করছেন, তা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি সংসদের আসন থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফ্রিল্যান্ড লেখেন, “সামনের সপ্তাহগুলোতে আমি আমার সংসদীয় আসন ছেড়ে দেব। বছরের পর বছর ধরে আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য আমার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।”
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে ইউক্রেন পুনর্গঠনে কানাডার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সময় ফ্রিল্যান্ড পরিবহন ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। তবে নতুন আন্তর্জাতিক দায়িত্ব গ্রহণের পর এবার সংসদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ওই বিবৃতিতে ফ্রিল্যান্ড আরও বলেন, “আজ গণতন্ত্র রক্ষার বৈশ্বিক লড়াইয়ের সম্মুখভাগে রয়েছে ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির অবৈতনিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগকে আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করছি।”
ফ্রিল্যান্ডের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী জানান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত ২২ ডিসেম্বর তাকে এই দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান। এরপর ২৪ ডিসেম্বর বিষয়টি তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে অবহিত করেন। সূত্রটি আরও জানায়, এই পদটি পূর্ণকালীন নয় এবং এর জন্য কোনো আর্থিক পারিশ্রমিক দেওয়া হবে না।
জেলেনস্কি চান, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা কাউন্সিল গড়ে তোলা হোক, যেখানে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা যুক্ত হবেন।
ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্ক গভীর ও ব্যক্তিগত। তার জন্ম ইউক্রেনে। সাংবাদিক হিসেবে দুই দশকের বেশি সময় কাজ করার সময় তিনি ইউক্রেন ও রাশিয়া দুই দেশেই বসবাস করেছেন। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং কানাডার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রিল্যান্ডের অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইউক্রেনের জন্য এই নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের যোগ্যতা “অতুলনীয়”।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রিল্যান্ডের এই নিয়োগ ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ক্ষেত্রে।

