
নতুন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো পর্যালোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা। এই প্রেক্ষাপটে দেশটির অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন ইউনিফরের জাতীয় প্রেসিডেন্ট লানা পেইন বলেছেন, একটি ন্যায্য ও টেকসই চুক্তি নিশ্চিত করতে হলে কানাডাকে অবশ্যই দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে হবে।
পেইন সতর্ক করে বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের একটি অংশ যেভাবে দ্রুত যেকোনো মূল্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর চাপ দিচ্ছে, তা তাকে উদ্বিগ্ন করছে। তার ভাষায়, “যেকোনো মূল্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা দর-কষাকষির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ কৌশল। এতে কানাডার স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান আলোচনায় কানাডা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং সেই অবস্থানকে দুর্বল করা উচিত নয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনার লক্ষ্যে আগামী জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রবেশ করবে কানাডা। এই আলোচনায় বিদ্যমান কানাডা–যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো বাণিজ্য চুক্তি (সিইউএসএমএ) নতুন করে মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই আলোচনায় ডেইরি পণ্য, অ্যালকোহল এবং ডিজিটাল সেবাখাতকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে খাতভিত্তিক শুল্ক নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বিশেষ করে গাড়ি শিল্প, বনজসম্পদ এবং ধাতু উৎপাদন খাত খাতভিত্তিক শুল্কের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিফর প্রেসিডেন্ট লানা পেইনের মতে, এই শুল্ক কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়া উচিত নয়। বরং কানাডার উচিত নিজের অবস্থানে অনড় থাকা এবং শুল্কের ফলে সৃষ্ট ক্ষতকে দর-কষাকষিতে চাপ হিসেবে ব্যবহার করা।
পেইন বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। তাদের অর্থনীতি ভুগছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান হ্রাস পাচ্ছে, নতুন কর্মী নিয়োগ ও মজুরি কমতির দিকে যাচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটন ও খুচরা ব্যবসাও নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়ছে।
তার মতে, এসব সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে, যা আলোচনার টেবিলে কানাডার জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কানাডার উচিত জাতীয় স্বার্থ, শ্রমিকদের অধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দৃঢ় ও কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখা।

