
কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে কানাডার অন্টারিও প্রদেশ। তিন বছর ও তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য নতুন ও পরিমার্জিত কারিকুলাম ঘোষণা করেছে প্রাদেশিক সরকার। এই কারিকুলামে স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনার মাধ্যমে কোডিং, ব্যাকরণ, পড়া-লেখা ও গণিত শেখানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে যেমন সমর্থন রয়েছে, তেমনই সমালোচকদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
প্রাদেশিক সরকার বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন কারিকুলামের ঘোষণা দেয়। সরকার একে ‘ব্যাক টু দ্য বেসিকস’ অ্যাপ্রোচ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। তাদের দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে শিশুদের গ্রেড ওয়ানে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। নতুন পাঠ্যক্রমে রিডিং, রাইটিং ও গণিতের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রার একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার প্রতিবেদককে জানান, পরিমার্জিত এই কারিকুলাম কার্যকর করার আগে এক বছরের বিরতি রাখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও কার্যকর হয়।
প্রদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন কারিকুলাম নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হবে আগামী বছরের শুরুর দিকে। এরপর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এটি কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ে কার্যকর হবে। এক ইমেইল বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, শিক্ষকদের যেন কারিকুলাম ভালোভাবে পর্যালোচনা করার এবং বাস্তবায়নের আগে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকে, সেই কারণেই সেপ্টেম্বরের অনেক আগেই পরিমার্জিত কারিকুলাম প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, নতুন এই কারিকুলাম প্রত্যেক শিশুর রিডিং, রাইটিং ও গণিতের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এতে খেলাভিত্তিক শিখনের সুযোগও থাকবে, যাতে শিশুরা খেলতে খেলতেই শেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
তবে এই পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। সমালোচকদের কেউ কেউ বলছেন, গবেষণাভিত্তিক খেলাধুলানির্ভর শিক্ষাপদ্ধতি থেকে সরে আসার প্রবণতা তাদের উদ্বিগ্ন করছে। তাদের আশঙ্কা, খুব অল্প বয়সে অতিরিক্ত কাঠামোবদ্ধ ও নির্দেশনামূলক শিক্ষা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
এলিমেন্টারি টিচার্স’ ফেডারেশন অব অন্টারিও (ইটিএফও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন কিন্ডারগার্টেন কারিকুলাম চালুর আগে সরকারকে অবশ্যই উচ্চ দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনটির মতে, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা ছাড়া এই পরিবর্তন কার্যকর করা কঠিন হবে।
নতুন কারিকুলামের আওতায় ভাষা শিক্ষাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কথা বলা, শোনা এবং যোগাযোগের জন্য মুখভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি ও শারীরিক ভাষার ব্যবহার। পাশাপাশি শব্দ পড়া ও বানান করা, শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি, রিডিং দক্ষতা এবং সহজ টেক্সট তৈরিতে অক্ষর, শব্দ ও বাক্য ব্যবহারের জ্ঞান শেখানো হবে।
গণিত অংশে শিশুদের সংখ্যা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হবে এবং ১০ পর্যন্ত যোগ ও বিয়োগ শেখানো হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে থাকবে চারপাশের বিশ্ব সম্পর্কে জানার জন্য বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, নতুন বা ভিন্ন কিছু সৃষ্টিতে প্রকৌশল নকশার ব্যবহার, সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী চিন্তা এবং ভিন্নভাবে চিন্তা ও সৃষ্টিশীল কাজের জন্য কোডিংয়ের প্রয়োগ।
সব মিলিয়ে, অন্টারিওর নতুন কিন্ডারগার্টেন কারিকুলাম শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি শিশুদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের জন্য কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের পদ্ধতি, শিক্ষকদের প্রস্তুতি এবং খেলাভিত্তিক ও কাঠামোবদ্ধ শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

