
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার আবহে অন্টারিও সরকারের শুল্কবিরোধী বিজ্ঞাপন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে প্রচারিত ওই বিজ্ঞাপনটি এখন পর্যন্ত তার সরকারের চালানো সবচেয়ে সফল বিজ্ঞাপন। যদিও এই বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করে দেন।
বৃহস্পতিবার অটোয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফোর্ড বলেন, বিজ্ঞাপনটি ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ বার দেখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা মূলত আমেরিকান জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চেয়েছিলাম। সত্যি কথা বলতে গেলে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোযোগও আমাদের লক্ষ্য ছিল। তিনি যদি এ নিয়ে মন্তব্য না করতেন, তাহলে এই বিজ্ঞাপন হয়তো ১২ কোটি ৪০ লাখ নয়, মাত্র ১২ দশমিক ৪ জন মানুষই দেখত।”
ফোর্ডের এই মন্তব্যের সময় তাঁর পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ফুটেজে প্রধানমন্ত্রীর মুখভঙ্গি স্পষ্ট করে দেয়, তিনি এই বক্তব্যের সঙ্গে স্বস্তিতে ছিলেন না বা পুরোপুরি একমত নন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর ঠিক আগেই ফোর্ড ও কার্নি একটি নতুন সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা দুই স্তরের সরকারের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বার্তা দেয়।
প্রিমিয়ার ফোর্ড আরও বলেন, বাণিজ্য আলোচনার মূল দর-কষাকষির টেবিলে তিনি যে নেই, সে বিষয়টি তিনি ভালোভাবেই জানেন। তাঁর ভাষায়, “ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালানোর ক্ষেত্রে আমি কোনোভাবেই সামনের সারির কানাডীয় কর্মকর্তা নই।”
তবে প্রধানমন্ত্রী কার্নির মুখভঙ্গি ও অস্বস্তির বিষয়টি যখন ফোর্ডের নজরে আনা হয়, তখন তিনি বিষয়টি খোলাসা করে বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর হয়ে কথা বলছি না। আমি কথা বলছি অন্টারিওর মানুষের জন্য। শুল্কের প্রভাব কানাডার অন্য যেকোনো প্রদেশের তুলনায় অন্টারিওতেই সবচেয়ে বেশি পড়েছে। তাই একটি ন্যায্য চুক্তির জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
এই মন্তব্য আসে সিটি নিউজের এক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে। প্রশ্নটি ছিল ফোর্ড যদি ওই বিজ্ঞাপনটি প্রচার না করতেন, তাহলে কি খাতভিত্তিক শুল্ক কম হতো? এই প্রশ্নের উত্তরে ফোর্ড কার্যত নিজের অবস্থানেই অনড় থাকেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আলোচিত বিজ্ঞাপনটিতে সাবেক রিপাবলিকান মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সংরক্ষণবাদবিরোধী মন্তব্য ব্যবহার করা হয়। ফোর্ড সরকারের দাবি, রিগ্যানের বক্তব্য তুলে ধরে তারা আমেরিকান জনগণকে বোঝাতে চেয়েছে যে শুল্ক ও বাণিজ্য বাধা শেষ পর্যন্ত উভয় দেশের অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজ্ঞাপন একদিকে যেমন জনমত তৈরিতে কার্যকর হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি এটি কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কে অপ্রত্যাশিত চাপও তৈরি করেছে। বিশেষ করে যখন ফেডারেল সরকার নতুন করে আলোচনার পথ খুঁজছে, তখন প্রাদেশিক সরকারের এমন আক্রমণাত্মক কৌশল কতটা সহায়ক সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

