গোপনীয়তা নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে অন্টারিওর এক চিকিৎসককে জরিমানা

গোপনীয়তা নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে অন্টারিওর এক চিকিৎসককে জরিমানা - the Bengali Times
কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে উইন্ডসর রিজিয়নাল হাসপাতালের বিশেষ অনুমোদিত প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে ডা আফান্দি ১৪৬ বার রোগীর তথ্য অনুসন্ধান করেন এবং মোট ৮৩১ জন নবজাতকের পারিবারিক তথ্য দেখেন

অন্টারিওর উইন্ডসরে রোগীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যতথ্য গোপনীয়তা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে এক চিকিৎসক ও তার ক্লিনিকের বিরুদ্ধে বড় ধরনের জরিমানা আরোপ করেছে অন্টারিও ইনফরমেশন অ্যান্ড প্রাইভেসি কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, চিকিৎসক ডা. ওমর আফান্দি তার হাসপাতালের ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ডের বিশেষ প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে নবজাতক শিশুদের জন্মসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন এবং পরে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে খৎনা করানোর প্রস্তাব দেন।

কমিশনার প্যাট্রিসিয়া কোসেইম এক লিখিত রায়ে জানিয়েছেন, ডা. আফান্দির এ কর্মকাণ্ড শুধু নৈতিকতার পরিপন্থী নয়, বরং এটি অন্টারিওর Personal Health Information Protection Act (PHIPA)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। রায়ের অংশে উল্লেখ করা হয়, “একজন চিকিৎসক যিনি রোগীর আস্থা ও গোপনীয়তার রক্ষক, তিনি সেই আস্থা ভঙ্গ করেছেন — এবং এমন ঘটনা চিকিৎসা পেশার নৈতিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

- Advertisement -

কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে, উইন্ডসর রিজিয়নাল হাসপাতালের বিশেষ অনুমোদিত প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে ডা. আফান্দি ১৪৬ বার রোগীর তথ্য অনুসন্ধান করেন এবং মোট ৮৩১ জন নবজাতকের পারিবারিক তথ্য দেখেন। যদিও তিনি তাদের বিস্তারিত মেডিকেল চার্ট খোলেননি, তথাপি নবজাতকের নাম ও জন্মতারিখের মতো সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে তিনি ১৭ জন অভিভাবককে টেক্সট মেসেজ ও ৭৪ জনকে ফোনে যোগাযোগ করেন।

তাদের তিনি নিজস্ব ক্লিনিক “Wee Kidz Pediatrics”-এ খৎনা করানোর আহ্বান জানান। প্রতিটি খৎনা থেকে আফান্দি ৩১৫ ডলার করে আয় করতেন, যা কমিশনের মতে “রোগীর তথ্যের অবৈধ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের” একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

রায়ে কমিশনার কোসেইম বলেন, ডা. আফান্দি তার কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভুল স্বীকার করেছেন। তবে এই অনুশোচনা “গোপনীয়তা লঙ্ঘনের গুরুত্বকে কমিয়ে দিতে পারে না।” তাই তাকে ৫,০০০ ডলার জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে, তার পরিচালিত ক্লিনিক Wee Kidz Pediatrics-এর বিরুদ্ধে গোপনীয়তা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি না থাকার কারণে অতিরিক্ত ৭,৫০০ ডলার জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। কমিশনারের মতে, এই সিদ্ধান্ত অন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা, যাতে তারা রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করে।

কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “এই ঘটনার ক্ষতি কেবল আর্থিক নয়, মানসিকও। এসব অভিভাবক সদ্য সন্তান জন্ম দিয়েছেন তারা তখন এক গভীর আবেগপূর্ণ ও নাজুক অবস্থায় ছিলেন। এমন সময়ে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বাণিজ্যিক প্রস্তাব পাঠানো অত্যন্ত অনৈতিক ও অমানবিক।”

অন্টারিওতে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাইভেসি রুলিং হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য খাতের স্টার্টআপ ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্লিনিকগুলোকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগীর তথ্যের নিরাপত্তা শুধু আইনি নয়, মানবিক দায়ও বটে এবং এই রায় সেই নৈতিক সীমানাটিকেই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করল।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles