
অন্টারিওর জনপ্রিয় কানাডিয়ান হুইস্কি ক্রাউন রয়্যাল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় উঠেছে। প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড নাটকীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলনের শেষে এক বোতল ক্রাউন রয়্যাল হুইস্কি ঢেলে ফেলে দিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে অন্টারিও সরকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত লিকার স্টোরগুলোর তাক থেকে ক্রাউন রয়্যাল সরানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে, যখন দিয়াজিও (Diageo) ক্রাউন রয়্যালের মূল কোম্পানি ঘোষণা দেয় যে তারা অন্টারিওর অ্যামহার্স্টবার্গ শহরে অবস্থিত তাদের উৎপাদন কারখানাটি আগামী ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ করে দেবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শতাধিক কর্মী চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়বেন।
এই ঘোষণার পরই প্রিমিয়ার ফোর্ডের প্রতিক্রিয়া আসে। সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে তিনি ক্রোধভরে বলেন, “তারা আমার লোকেদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আপনি যদি অন্টারিওর মানুষকে আঘাত করেন, আমিও পাল্টা আঘাত করব। ফেব্রুয়ারিতে আপনি সেই ব্যথা টের পাবেন, যখন এই কর্মীরা বেতন পাবেন না।” এরপরই তিনি প্রদর্শনমূলকভাবে বোতলের হুইস্কি ঢেলে ফেলে দেন যা রাজনীতিতে প্রতীকী প্রতিবাদের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও প্রিমিয়ারের প্রতিবাদ গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে, অন্টারিও সরকার কিছুটা সংযত অবস্থান নিয়েছে।
প্রাদেশিক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বেঙ্গলি টাইমসকে বলেন, “সব বিকল্পই আমাদের সামনে খোলা রয়েছে। কিন্তু কারখানাটি সত্যিই বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত, আমরা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করব না।” এর মানে, অন্তত আগামী পাঁচ মাস ক্রাউন রয়্যাল প্রাদেশিক লিকার স্টোর (LCBO)–এর তাক থেকে সরানো হবে না।
অন্টারিওর লিবারেল পার্টির এমপিপি জন ফ্রেজার ফোর্ডের পদক্ষেপকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “বোতল খালি করার অর্থ হলো বর্জনের প্রতীকী বার্তা দেওয়া। যদি সেটাই প্রিমিয়ার করতে চান, তবে নীতি প্রণয়ন করে করুন নাটক নয়।”
অন্যদিকে, দিয়াজিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্টারিওর শুল্কনীতি বা সরকারের কোনো পদক্ষেপের সম্পর্ক নেই। তারা বলছে, এটি একটি গ্লোবাল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং স্কটল্যান্ডেও কিছু কারখানা বন্ধ করা হচ্ছে।
অন্টারিওর এমপিপি লিসা গ্রেটজকি দিয়াজিওর এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন, “আমাদের উচিত কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া, যেন তারা প্রদেশে থেকেই উৎপাদন অব্যাহত রাখে। এই কারখানাটি আমাদের স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণ।”
অন্টারিওর অর্থনীতিতে মদ উৎপাদন ও বিক্রয় খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ক্রাউন রয়্যাল শুধু একটি ব্র্যান্ড নয় এটি কানাডিয়ান ঐতিহ্য ও প্রাদেশিক গর্বের প্রতীক। তাই এর কারখানা বন্ধের ঘোষণাকে শুধু ব্যবসায়িক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ডগ ফোর্ডের নাটকীয় প্রতিবাদ হয়তো জনমতকে তার পক্ষে টানতে সফল হবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সমাধান আসবে না যদি না সরকার কর্মসংস্থান ও শিল্প রক্ষায় কার্যকর নীতি প্রণয়ন করে। ফেব্রুয়ারিতে কারখানা বন্ধের সময় ঘনিয়ে এলে বোঝা যাবে, এই রাজনৈতিক নাটকের পরিণতি আসলে কী দাঁড়ায় আবেগ না বাস্তব নীতি।

