
ড. ইউনুসের সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম ছাড়া তাঁর শাসনামলের অন্য কোনো বিষয়ে আমার বিশ্লেষণ বা আগ্রহ নেই। আমি দেখছি—অনেক কিছু আগের মতোই চলছে; তবু আমার বিশ্বাস, যদি সংস্কারগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, পরবর্তী যারা সরকার করবে সেবার সুফল সাধারণ মানুষ পাবেন। যাঁরা ড. ইউনুসকে সহ্য করতে পারেন না, তাঁরা হয়তো আমার এই মন্তব্য পছন্দ করবেন না—তবে এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।
আমি বহুবার বলেছি: গতানুগতিক চাপাবাজি, রাতারাতি ক্লান্ত-শব্দে ‘বাচ্চাদের আঙুল ফুলে কলাগাছ’ করা সেই রাজনীতি — যে রাজনীতি পনেরো, বিশ বছর নয়, গত ৫৪ বছর ধরে চলে আসছে — আমি সেটাকে ঘৃণা করি। সেটা যে দলের নামেই হোক বা যেই নেতা-নেত্রীর ছত্রছায়ায়ই হোক, আমার মনে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—ড. আসিফ নজরুল বা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মত বক্তব্য—যেমন ভারত-চুক্তি বা ভারতীয় সংস্থার কাজে আক্রান্তি নিয়ে যে ঝটিকো বিবৃতি দিয়েছেন, সেগুলোতে আমার আগ্রহ কখনো ছিল না। আবোল তাবোল বক্তব্য, কথার মারপ্যাচে বিতর্ক উসকে দিয়ে অন্যকে আঘাত করার রাজনীতি—এবং কেবল ক্ষমতার জন্য বা দখলের জন্য কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া—এসবকেই আমি প্রত্যাখ্যান করি।
দেশে আমার মত লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রত্যাশা করে পরিবর্তনের—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, কেউ তদবীর করতে হবে না, সবকিছু নিয়মমাফিক চলবে। কিন্তু যতবারই আমরা আশা করেছি, ততবারই হতাশ হয়েছি। এবারও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত; ফল যদি একই থাকে, তবু আমরা আশা করব — আবার কেউ আসবে, আবার পরিবর্তন হবে। আমি একটি উদাহরণ দিই: কোনও বিষয়ের জন্য সাবেক এমপি কলিমউদ্দিনের কাছে যেতে গিয়ে আমাকে বারবার ঘুরতে হয়েছে, সেন্ডেলের তলা ফেটে গেছে, অযথা পিএ-কে ঘুষ দিতে হয়েছে—ডিও লেটারের জন্য এতিমের মতো ভেসেছি। যদি পরবর্তী এমপিকেও একই দালালি ও ঘুষ-প্রথা চলতে থাকে, তাহলে এই পরিবর্তনের কোনও মূল্য রইবে না। এমন অবস্থায় হাজারো মানুষের ত্যাগ অর্থহীন হবে। তাই আমার স্ট্যান্ড স্পষ্ট: ভারত-পাকিস্তান-অথবা আমেরিকা-চীনের গল্প শোনিয়ে আমাকে আকর্ষিত করা যাবে না। আমি চাই গণতান্ত্রিক, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতার এমন সরকার, যেখানে মানুষ দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পাবে, আত্মমর্যাদায় পরিবার-পরিজন নিয়ে উন্নতি করবে, এবং সুযোগ-সুবিধা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই মিলবে। কে নেতৃত্ব দিচ্ছে বা কোন রাজনৈতিক আদর্শে সেটা আমাকে প্রধান নয়—ফলাফলই আমার কাছে মুল্যবান।
স্কারবোরো, কানাডা

