
কলম্বোতে আইসিসি নারী বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। কদিন আগেই পুরুষদের এশিয়া কাপে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-পাকিস্তান। কোনো ম্যাচেই হাত মেলাননি দুই দলের ক্রিকেটাররা। এবার নারী বিশ্বকাপেও দেখা মিলল একই চিত্র। রোববার টসের সময়ও দেখা গেল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে পুরোনো শীতলতা। ভারতীয় অধিনায়ক হারমনপ্রীত কৌর টসের সময় পাকিস্তানি অধিনায়ক ফাতিমা সানার সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে গেলেন। আগেই যেমন জানানো হয়েছিল, ভারতীয় নারী দলও পুরুষ দলের মতোই পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘নো-হ্যান্ডশেক’ নীতি বজায় রাখছে।
টসে জিতে ব্যাটিং নয়, বল করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানা। আর সেই সঙ্গে শুরু হয় ভারত-পাকিস্তান নারী বিশ্বকাপ ম্যাচ, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ছায়া নিয়েই।
আগেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সচিব দেবজিত সাইকিয়া পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন- দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে করমর্দনের কোনো নির্দেশনা নেই। “নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বোর্ড থেকে করমর্দনের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। খেলোয়াড়দের মনোযোগ শুধু খেলার দিকেই,” বলেন সাইকিয়া।
পুরুষ এশিয়া কাপ থেকেই এই বিষয়টি আলোচনায় আসে। তিন দফা মুখোমুখি হওয়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোর প্রথমটির পর ভারতীয় দল করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানায়। তখনই আলোচনায় আসে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রসঙ্গ। পরে আবার বিতর্ক ছড়ায় যখন ভারতীয় দল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) সভাপতি মোহসিন নাকভির (যিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানও) কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ভারত সরকার বরাবরই বলেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের ক্রীড়া সম্পর্ক সীমাবদ্ধ থাকবে কেবলমাত্র বৈশ্বিক বা নিরপেক্ষ ভেন্যুর টুর্নামেন্ট পর্যন্ত। কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পরিকল্পনা নেই। সর্বশেষ দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়েছিল ২০১২–১৩ সালে।
বর্তমানে নারী বিশ্বকাপের এই ম্যাচটিও কলম্বোতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাকিস্তান নারী দল পুরো টুর্নামেন্টে কলম্বোতেই অবস্থান করছে, আর ভারতের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো ভাগ হয়ে হয়েছে গুয়াহাটি ও কলম্বোতে। নিয়ম অনুযায়ী, পাকিস্তান যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে পৌঁছায়, সেগুলোও কলম্বোতেই অনুষ্ঠিত হবে।
বিসিসিআই সূত্রগুলো জানায়, ‘নো-হ্যান্ডশেক’ নীতিটি আসলে অনেক আগেই কার্যকর হয়- এপ্রিলে পাহালগামে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর সীমান্ত পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিষয়টি আরও জোরদার হয়।

