
যে মুহুর্তে বিশ্বের সুউচ্চ অট্টালিকার শহর আমেরিকার বাণিজ্য নগরীতে দাঁড়িয়ে চলছে বাংলাদেশের দেউলিয়া রাজনীতির নগ্ন পোস্ট মর্টেম ঠিক সেই মুহুর্তে সেই একই শহর নিউইয়র্কের নগর পিতা তথা মেয়র নির্বাচনের অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় প্রার্থী জোহরান মামদানিকে এমএসএনবিসি টেলিভিশনের একদল সাংবাদিক প্যানেলের সামনে হোষ্ট প্রশ্ন করলেন তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে বিগত মেয়রদের কাকে অনুসরণ করবেন? ডেমোক্রেটিক পার্টির মেয়র ডিনকিনস, রিপাবলিকান পার্টির মেয়র রুডি জুলিয়ানি, রিপাবলিকান পার্টির দুইবার ও স্বতন্ত্র একবার মোট তিনবারের মেয়র ব্লুমবার্গ নাকি দুইবারের মেয়র ডি ব্লাজিও? কাকে অনুসরণ করবেন?
জোহরান মামদানি হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন তিনি সব মেয়রদের প্রশাসন থেকেই কিছু কিছু নিবেন। এই যে কথাটা বললেন তা নিছক ছলনা করে নয়, তিনি এবার সুনির্দিষ্ট করে বলতে লাগলেন, নিউইয়র্কের বিগত কয়েক প্রজন্মের প্রথম ডেমোক্র্যাটিক সোসালিস্ট মেয়র ডিনিকিনসের চমৎকার করে নিউইয়র্ক শহর গড়ে তোলা, মেয়র জুলিয়ানির সাথে নানা বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও তিনি স্টাটেন আইল্যান্ড ফেরী পারাপার জনগণের জন্যে ফ্রি করে দিয়েছিলেন যা আমরা অনেকদিন যাবত দাবী করেছিলাম, মেয়র ব্লুমবার্গ যিনি ৮৫০ একর এলাকা সবুজ জোন করেছিলেন এবং তার প্রশাসন চালানোর ও সেবা প্রদানের যে স্টাইল তিনি চালু করেছিলেন, মেয়র ডি ব্লাজিও যিনি ইউনিভার্সাল প্রি-কিন্ডারগার্টেন চালু করে কর্মজীবী পিতামাতার বছরে দশ হাজার ডলার সেভ করার কর্মসূচি চালু করেছিলেন যা আমি অনুসরণ করবো ভালভাবে বলে মনি করি। এভাবেই একটা সরকারের গুরুত্ব যা আমি আমার অন্তর থেকে দেখি, অনুভব করি, মেধা, পারঙ্গমতা দিয়ে এমনভাবে মেয়র প্রশাসন চালানো যাতে মানুষ বলতে পারে, হ্যা এরকমটাই চেয়েছিলাম, এরকম মানুষই চাই যাদের আছে সবকিছু মানুষের কাছে সহজলভ্য করার এজেন্ডা।
একটানা বলে জোহরান মামদানি যখন থামলেন, তখন টেলিভিশন সাংবাদিক পানেলের একজন বলে উঠলেন, ওহ, মনে হলো আমরা একদমে নিউইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচনের একটা ইতিহাসের ক্লাস থেকে বের হলাম!
যে মুহুর্তে মানুষ প্রতিনিয়ত আগায়, পজিটিভ চিন্তার প্রতিযোগিতায় রাতদিন পার করে সেই মুহূর্তে আমরা দুর্ভাগা জাতি নিজেদের টেনে নিয়ে যাচ্ছি ভয়ংকর ঘৃণা ও বিভেদের আদিম পশু শিকার করে জীবনযাপনের দিনগুলোতে। আফসোস!
স্কারবোরো, কানাডা

