
ঢাকাই সিনেমার নায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি পরীমনি
আওয়ামী লীগের হয়ে একসময় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া ঢাকাই চলচ্চিত্র নায়িকা অপু বিশ্বাস বিএনপির মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্থানীয় নেতা রিপন হোসেনের পক্ষে সমর্থন চান। জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত শোডাউন, ভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন অপু বিশ্বাস ও অভিনেতা নিরব হোসেন। খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন হোসেনের আমন্ত্রণে তারা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বিএনপির সমাবেশে কালচারাল ফ্যাসিস্ট অপু বিশ্বাসের অংশগ্রহণের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী দোসর অপু বিশ্বাস কিভাবে বিএনপির সমাবেশে যোগ দেয়-সেই প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবার্ষিকীর আয়োজক বিএনপি নেতাকর্মীদের বহিষ্কার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, বিনোদন অঙ্গনের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত অভিনেত্রী পরীমনি আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস দেন তিনি, যা ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
স্ট্যাটাসে পরীমনি লিখেছেন—‘আগে ছিল ৬ মাস হিন্দু, ৬ মাস মুসলিম। এখন ৬ মাস আওয়ামী লীগ, ৬ মাস বিএনপি। পল্টিবাজ, সুবিধাবাদী কারে বলে দিদি কিন্তু দেখিয়ে দিলেন। বাপরে বাপ কি জিনিস এটা।’
স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর অনেকে ধারণা করছেন, তিনি চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেছেন। কারণ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সেখানে কেক কাটা ও বক্তব্য দেওয়ার পর অপু বিশ্বাসের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এই স্ট্যাটাস দেন পরিমণি।
পরীমনির পোস্টে নয়ন মুদক নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘নামটা অপু বিশ্বাস না হয়ে অপু অবিশ্বাস হওয়া উচিত ছিলো।’ আমান উল্লাহ আমান নামে একজন লিখেছেন, ‘অপু বিশ্বাসকে ধুয়ে দিলেন।’
সানাউল করিম নামে একজন বলেছেন, ‘আওয়ামীলীগ একটানা অনেক বছর ক্ষমতায় থাকায় নৌকায় হাইব্রিড নেতার দখলে চলে গিয়েছিল। অপু বিশ্বাসের মত কিছু ব্যক্তির কাছে জিম্মি হয়ে গিয়েছিল প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আজকে আবারো প্রমাণ হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন অপু বিশ্বাস। অথচ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

