
কানাডায় সরকারি চাকরির সুযোগ ক্রমশ কমছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেডারেল ও প্রাদেশিক পর্যায়ে নিয়োগে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এর ফলে কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি হয়েছে এবং প্রতিযোগিতা বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা জানিয়েছে, ২০২২ সালে সরকারি খাতে নিয়োগ হয়েছিল প্রায় ৬৮,০০০ জন। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে ৪১,০০০-এ। দুই বছরে নিয়োগ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারি চাকরি পেয়েছেন মাত্র ১৭,৫০০ জন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
খাতভিত্তিক তথ্য বলছে, ফেডারেল পর্যায়ে প্রশাসনিক নিয়োগ কমেছে ৩৫ শতাংশ। প্রাদেশিক পর্যায়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে হ্রাস পেয়েছে ২৮ শতাংশ। পৌরসভা পর্যায়ে কমেছে ২৫ শতাংশ। বড় শহরগুলো অটোয়া, টরন্টো ও মন্ট্রিয়লে চাকরির বিজ্ঞপ্তির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
চাকরির সংখ্যা কমলেও আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ফেডারেল পর্যায়ে প্রতিটি চাকরির জন্য গড়ে ৪২০ জন আবেদন করেছেন। পাঁচ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ২৮০ জন।
সরকারি নিয়োগ কমার অন্যতম কারণ ব্যয় সংকোচন নীতি। ফেডারেল সরকার ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রশাসনিক ব্যয় ৩ বিলিয়ন ডলার কমানো হবে। এর অংশ হিসেবে নতুন নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে এবং অবসর নেওয়া কর্মীদের পদে নতুন কাউকে নেওয়া হচ্ছে না।
প্রযুক্তির বিস্তারও চাকরির সুযোগ কমাচ্ছে। কর রিটার্ন, পাসপোর্ট নবায়ন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়াকরণের মতো কাজ এখন অটোমেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় কর্মীর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের মধ্যে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ সবচেয়ে বেশি হলেও সীমিত নিয়োগের কারণে অনেককে বেসরকারি বা খণ্ডকালীন কাজে যেতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যয় সংকোচন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে আগামী দিনে কানাডার সরকারি চাকরির বাজার আরও কঠিন হতে পারে।

