
কানাডার শীত নিয়ে আগ্রহ ও উদ্বেগ দুটোই একসঙ্গে বাড়ছে। আবহাওয়া দপ্তর ও আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ সালের শীত হবে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কঠিন, যেখানে একদিকে থাকবে তীব্র শীতলতা আর অন্যদিকে রেকর্ড তুষারপাত।
বিখ্যাত ফারমার্স অ্যালমানাক জানিয়েছে, এ বছর প্রায় গোটা দেশজুড়েই দেখা যাবে “ক্লাসিক কানাডিয়ান শীত” অর্থাৎ প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর ঘন ঘন তুষারঝড়। প্রেয়ারিজ প্রদেশগুলো (আলবার্টা, সাস্কাচেওয়ান ও ম্যানিটোবা), উত্তর কুইবেক এবং ল্যাব্রাডর হবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল। সেখানে তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে মাইনাস ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
দক্ষিণ অন্টারিও, দক্ষিণ কুইবেক ও উপকূলীয় ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় কিছু সময় উষ্ণতার বিরতি মিললেও যে কোনো মুহূর্তে হঠাৎ করে নামতে পারে ঠাণ্ডার ঢেউ। পূর্ব কানাডা বিশেষ করে আটলান্টিক অঞ্চল ও কুইবেক প্রস্তুত হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি তুষারপাতের জন্য। মন্ট্রিয়ল ও অটোয়ায় একেক মাসে ৭০ থেকে ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষার জমতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, দুর্বল লা নিনিয়া পরিস্থিতির কারণে এবার ঠাণ্ডার তীব্রতা আরও বাড়বে। ২০০৭–০৮ সালের শীতের মতোই দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, গত বছরের মতো হঠাৎ ঠাণ্ডার প্রবাহ এ বছরও দেখা দিতে পারে। জানুয়ারি ২০২৫-এ টরন্টো, উইনিপেগ ও সাস্কাচেওয়ানে তাপমাত্রা মাইনাস ৩৬ ডিগ্রির নিচে নেমে গিয়েছিল, যাতে ২৪ জনের মৃত্যু হয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।
পশ্চিম কানাডাও বাদ যাচ্ছে না। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং তুষারঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। ভ্যাঙ্কুভারে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি তুষারপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন শীত পর্যটন শিল্পের জন্য একদিকে সুযোগ, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জও বটে। ইতিমধ্যেই কানাডার স্কি রিসোর্টগুলো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বুকিং পেয়েছে। তবে বারবার তুষারঝড় ও পরিবহন বিঘ্নিত হলে শিল্পে ক্ষতির শঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তীব্র শীতের কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের খরচ বেড়ে যাবে। ফলে পরিবারের মাসিক খরচে বাড়তি চাপ পড়বে।
সব মিলিয়ে ২০২৫–২৬ সালের শীত কানাডার জন্য হতে যাচ্ছে এক কঠিন মৌসুম। নাগরিকদের জন্য বার্তা স্পষ্ট প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে, কারণ এ বছর ঠাণ্ডা ও তুষার দুটোই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হবে।

