টরন্টোতে ই-ট্রান্সফার স্কামে সয়লাব

টরন্টোতে ই-ট্রান্সফার স্কামে সয়লাব - the Bengali Times
টরন্টোতে আর্থিক প্রতারণার সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগজনক রূপে দাঁড়িয়েছে ই ট্রান্সফার স্ক্যাম

টরন্টোতে আর্থিক প্রতারণার সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগজনক রূপে দাঁড়িয়েছে ই-ট্রান্সফার স্ক্যাম। পুলিশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে এই প্রতারণার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

কানাডিয়ান অ্যান্টি-ফ্রড সেন্টার-এর তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৪ সালেই সারা কানাডায় প্রায় ১৪,৫০০ মানুষ ই-ট্রান্সফার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১৯৮ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে টরন্টো একাই বহন করেছে ক্ষতির প্রায় ৭২ মিলিয়ন ডলার এবং ভুক্তভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোটের প্রায় ৩৫ শতাংশ।

- Advertisement -

২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসেই টরন্টোতে এই প্রতারণার রিপোর্ট হয়েছে প্রায় ৬,২০০টি যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। প্রতারণার ধরনও নানাবিধ: ভুয়া ইমেইল বা টেক্সট, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন, ভাড়া ও কেনাকাটার ফাঁদ, এমনকি পরিচিতজন সেজে টাকা চাওয়ার ঘটনাও ক্রমশ বাড়ছে।

একটি ব্যাংক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী তরুণ ও কর্মজীবীরা, যারা ভাড়া, টিকিট, সেকেন্ড-হ্যান্ড পণ্য কিংবা ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য নিয়মিত ই-ট্রান্সফার ব্যবহার করেন। জরিপে দেখা গেছে, টরন্টোর প্রতি চারজনের একজন অন্তত একবার এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

শুধু ব্যক্তিগত ভুক্তভোগী নন, ব্যবসায়ীরাও এর শিকার। ২০২৪ সালে ছোট ব্যবসাগুলো মোট ৩১ মিলিয়ন ডলার হারিয়েছে প্রতারণায়। প্রতারকেরা ভুয়া ইনভয়েস পাঠিয়ে কিংবা গ্রাহক সেজে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ই-ট্রান্সফার প্রতারণা এখন শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং শহরের সামগ্রিক অর্থনৈতিক আস্থার জন্যও বড় হুমকি। প্রতারণার কারণে অনেকেই অনলাইন লেনদেন থেকে ধীরে ধীরে আস্থা হারাচ্ছেন।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে, তারা ইতিমধ্যেই নতুন সাইবার সিকিউরিটি ব্যবস্থা চালু করেছে। কিছু ব্যাংক “দ্বৈত-নিশ্চিতকরণ” এবং “অটো ডিপোজিট” সুবিধা প্রবর্তন করেছে, যাতে প্রতারণার সুযোগ কমে।

কানাডিয়ান অ্যান্টি-ফ্রড সেন্টার -এর দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে ই-ট্রান্সফার প্রতারণার হার বেড়েছে ১৪৭ শতাংশ। ২০২০ সালে যেখানে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৮০ মিলিয়ন ডলার, ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ মিলিয়নে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলতি বছরেই এই রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।

টরন্টো পুলিশ নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অপরিচিত কারও কাছে অর্থ পাঠানোর আগে যাচাই করতে, সন্দেহজনক ইমেইল বা মেসেজ এড়িয়ে চলতে এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত রিপোর্ট করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।

শহর এখন ই-ট্রান্সফার প্রতারণার এক হটস্পটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের ক্ষতির পাশাপাশি হাজারো মানুষ এই সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর আইন, উন্নত প্রযুক্তি ও নাগরিক সচেতনতা সবকিছুর সমন্বয়েই কেবল এই মহামারি ঠেকানো সম্ভব।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles