
নিহত স্বামী উত্তম গগৈ এবং খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত স্ত্রী ববি ছবি সংগৃহীত
`সুস্থই তো ছিল। হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হল। তার পর সব শেষ।’ সমস্ত আত্মীয় পরিজনকে স্বামীর মৃত্যুসংবাদ দেওয়ার সময় কাঁদতে কাঁদতে একই বাক্য বলছিলেন স্ত্রী। কিন্তু পুলিশ আসতেই বদলে গেল বয়ান। আমতা আমতা করে এক বার জানান, শেষ রাতে বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। তার পর বুকে হাত দিয়ে বসে পড়েন স্বামী। এর পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কিন্তু কোনো নাটকই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি পুলিশের। শেষমেশ স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল স্ত্রীকে। আটক করা হল মৃতের নাবালিকা কন্যা এবং দুই তরুণকে।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুলাই ওই ব্যক্তিকে তাঁর বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার সঙ্গে বাড়িতে থাকতেন স্ত্রী এবং কন্যা। তাঁরা মৃত্যুসংবাদ দেন পরিচিতদের। কিন্তু খটকা লেগেছিল মৃতের ভাইয়ের। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে স্ত্রী এবং কন্যাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পরে স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। নাবালিকা কন্যাকে আটক দেখায় পুলিশ। এ ছাড়াও কন্যার দুই বন্ধুকে আটক করা হয়। অভিযোগ, স্বামীকে খুন করেছেন স্ত্রী। আর বাবাকে খুনের জন্য মাকে সহায়তা করেছেন নবম শ্রেণির ছাত্রী! খুনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশের দাবি, ইতিমধ্যে অপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়েছে মৃতের কন্যা। জানিয়েছে, তার দুই বন্ধুও কিলিং মিশনে অংশ নেয়।
নিহতের ভাইয়ের দাবি, ভাবি তাঁকে বলেছিলেন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগ। কিন্তু ভাইয়ের দেহ দেখার পর তাঁর সন্দেহ হয়। ওই যুবকের কথায়, ‘মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি, ভাইয়ের এক কানের অনেকটা অংশ কাটা। পাশে একটা ছাতা পড়ে আছে। তখন ভাবি বলল, বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু হলে কানে কী ভাবে কাটা দাগ এল? জবাব দিতে পারেনি ভাবি। ভাইঝিও কিছু বলেনি।’
ওই যুবক জানান, পুলিশকে বিষয়টি তিনি জানিয়েছিলেন। পরে পুলিশের তরফে ভাবির গ্রেফতারি এবং ভাইঝির আটক হওয়ার কথা জানতে পারেন তিনি। ওই যুবক আরও বলেন, ‘পুলিশ বলেছে, ভাইকে খুন করেছে ভাবি। ভাইঝি এবং আরও দু’জন খুনে সাহায্য করেছে।’ খুনের কারণ কী হতে পারে? জবাব দিতে পারেননি তিনি।
চাঞ্চল্যকর এ খুনের ঘটনাটি ঘটে ভারতের অসমের জমিরার এলাকায়। নিহত ওই ব্যক্তির নাম উত্তম গগৈ। তার স্ত্রী ববি।

