
কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মিসিসাগা শহরে আগামী ১১ থেকে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৭তম জলসা সালানা কানাডা—একটি আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সম্মেলন, যা প্রতিবছর হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর এই আয়োজনে অংশ নেবেন প্রায় ২৭ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ। তাঁদের সার্বিক সেবায় নিয়োজিত থাকবে ৭ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক।
জলসা সালানা প্রথম শুরু হয় ১৮৯১ সালে, ভারতীয় উপমহাদেশে হযরত মির্জা গুলাম আহমদ (আ.)-এর আহ্বানে। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ এটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যার অন্যতম বড় আয়োজনটি কানাডায় হয়ে থাকে।

এবারের জলসায় আহমদিয়া মুসলিম জামাতের বিশ্ব নেতা হযরত খলিফাতুল মসীহ (আ.) সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না, তবে তাঁর বক্তব্য যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। অনুষ্ঠানের সকল অধিবেশন এমটিএ ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে ইংরেজি, উর্দু, আরবি ও ফরাসি ভাষায় সম্প্রচারিত হবে।
এই তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে ধর্ম, নৈতিকতা, সামাজিক সমস্যা ও পারিবারিক মূল্যবোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। থাকছে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক পৃথক অধিবেশন, যেখানে আলোচকরা তুলে ধরবেন বর্তমান সমাজে ইসলামি শিক্ষা ও নৈতিকতার গুরুত্ব। বক্তৃতার মধ্যে রয়েছে—আল্লাহর অস্তিত্ব খোঁজা, নবী করিম (সা.)-এর আদর্শ জীবন, সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা, খেলাফতের তাৎপর্য, ও দাম্পত্য জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ।

নারীদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়েছে লাজনা গাহ অধিবেশন, যেখানে থাকবে পর্দা, আত্মিক উন্নয়ন ও ঈমানদার সন্তান গঠনের নানা দিক আলোচনা।
জলসায় অংশ নেওয়া অতিথিরা পাবেন ইসলামী বই ও শিক্ষা সামগ্রী কিনে নেওয়ার সুযোগ, থাকছে এমটিএ বুথ, প্রদর্শনী, শিক্ষা পুরস্কার প্রদান, তাহাজ্জুদের নামাজ ও সম্মিলিত দোয়ার আয়োজন।
এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিউম্যানিটি ফার্স্ট কানাডা। এই সংগঠন বিভিন্ন দেশে দুর্যোগ সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে কাজ করে আসছে। অংশগ্রহণকারীরা জলসা প্রাঙ্গণেই জানতে পারবেন এসব মানবিক কাজের বিস্তারিত, এবং ইচ্ছা করলে যুক্তও হতে পারবেন।
আহমদিয়া জামাত কানাডার জাতীয় আমির লাল খান মালিক জানান, “জলসা শুধু জ্ঞান অর্জনের নয়, বরং আত্মিক শুদ্ধির একটি অসাধারণ মাধ্যম। এখানে সত্যিকারের ভালোবাসা, ন্যায়বিচার আর শান্তির বার্তা প্রতিধ্বনিত হয়।”

গত বছরের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে অংশগ্রহণকারী রুবা এম. বলেন, “হুজুরের দোয়া ও ভাষণ শুনে আমি এক অন্যরকম প্রশান্তি অনুভব করেছি।” আরেকজন, তানিয়া এস. জানান, “হিউম্যানিটি ফার্স্ট স্টলে দাঁড়িয়েই আমি উপলব্ধি করেছি, মানবসেবা আসলে আল্লাহর ইবাদতেরই অংশ।”
জলসায় অংশ নিতে আগ্রহীরা www.ahmadiyya.ca/jalsa ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা যাবে ৬৪৭-২৩৭-৮৯০১ নম্বরে।
জলসা সালানা কেবল একটি ধর্মীয় সম্মেলন নয়—এটি একটি শান্তির বার্তা, আত্মিক পরিবর্তন এবং সামগ্রিক মানবকল্যাণের একটি শক্তিশালী মঞ্চ। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষ ফিরে পায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন আশা, এবং নতুন এক নিজেকে।

