
এক. গতকাল সন্ধ্যায় একটা কফি আড্ডায় বলছিলাম। কাম, ক্রোধ, লোভ লালসা মানুষ মাত্রেই আছে এবং থাকবে। সেগুলোকে গলাটিপে হত্যা করে যারা এগিয়ে যেতে পারে তাদেরকে মানুষ ব্যতিক্রম মনে করে, পূজনীয় হয়ে উঠেন তারা। বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তানের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের বাইরে তৃতীয় ব্যক্তিত্ব, তৃতীয় ধারা বেড়ে উঠার সুযোগ কম। তারপরও অনেকে উঠেছেন তবে টিকে থাকতে পেরেছেন কমই। যারা উঠেছেন তাদের ত্যাগ অকল্পনীয়। যেমন ভারতের জ্যোতি বসু কিংবা বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং ওরফে ভিপি সিং। শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের পার্টির আজ আর কোন অস্তিত্বই নেই।
উপমহাদেশের রাজনীতিতে বড় নেতা হতে ইমেজ সংকট একটা বড় বাঁধা। যে ইমেইজ ৫ই আগস্ট তৈরী হয়েছিল সেই ইমেইজে অনেকদুর আসা গেছে ঠিকই কিন্তু কাদা মাটি আর ঝড় জলোচ্ছ্বাসে আটকে গেছে। দুটো এপিএস কেলেংকারি, নারী কেলেঙ্কারি সহ আরো কিছু ঘটনা একটা সম্ভাবনার আতুঁর ঘরে মৃত্যু ডেকে এনেছে। এসব বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্হা নেয়া উচিত। বড়দের কলংকিত ফুটপাত অনুসরণ না করে স্বচ্ছতার, জবাবদিহিতার নুতন উদাহারণ তৈরী করুন। ইতিহাস ঘাটুন, উদাহরণ তৈরী করুন, নিজেরা না পারলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে অনুকরণীয় হয়ে ইতিহাসের পাতায় স্হান করে নিন।
একটা অডিওতে একজন প্রতিভাবান নারী নেত্রীর কান্নাজড়িত কিছু কথা শুনে কিছু লিখতে ইচ্ছা হলো। তাই উপরের কথাগুলো লিখলাম।
দুই. খুশী হলাম জেনে যে প্যাচ লাগানো নেতাদেরকে বাইরে রেখে ড. ইউনুস ও তারেক রহমানের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ একান্ত বৈঠক হয়েছে। তবে আবারও বলি সংস্কার বিহীন নির্বাচন হলে কর্তৃত্ববাদী, ব্যক্তিবাদী ও পরিবারবাদী শাসন আবারও ফিরে আসবে। আর তা যদি হয় তাহলে দেশে আবারও একদল চামচা সাংবাদিক আমরা দেখতে পাব যারা গণভবনে গিয়ে তোষামদি প্রশ্ন করে আহলাদে আটখানা হবে, আবারও আমরা স্কুল কলেজ মাদ্রাসা মসজিদ নির্মাণ, রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন, হাট বাজারের ইজারাদারি, যে কোন উন্নয়ন প্রকল্প এমনকি দুঃস্হদের মধ্যে ভিজিডি কার্ড বিতরণসহ একজন নাগরিকের দৈনন্দিন জীবন যাপনের প্রায় সবকিছুর জন্যে এলাকার এমপি নামক এক ধরনের গড ফাদারদের মেজাজ মর্জির উপর নির্ভর করতে হবে, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত অবধি শুধুমাত্র এমপির বাসায়, অফিসে এমনসব চাটুকারদের ভীড়ে ঠাসা থাকবে যাতে সাধারণ মানুষদের তাদের কৃপার উপর বসে থাকতে হবে কখন কোন চামচা দয়া পরবশ হয়ে অনুদান, দয়া দাক্ষিণ্যের ছিটে ফোটা তাদের ভাগ্যে জুটিয়ে দিবে! এরকম দুরাবস্হা চলতে পারে না। বাংলাদেশ কোন জমিদার, এলিটদের রক্তে স্বাধীন হয় নি। সাধারণ মানুষ, রিকশাওয়ালা, শ্রমজীবী মানুষ যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে এমপি বা চেয়ারম্যান নামক কোন দানবীয় শক্তির দাসত্ব করার জন্যে নয়।
জনগণের শক্তিকে বলিয়ান করতে, জনগণকে সরাসরি ক্ষমতায়ন করতে হলে প্রধান প্রধান সংস্কার করেই নির্বাচনে যেতে হবে যে নির্বাচন হবে নমিনেশন বাণিজ্যের নয়, টাকা দিয়ে ভোট কেনা নির্বাচন নয়, ইনক্লুসিভ নির্বাচন, সকল রাজনৈতিক দল মতের অংশগ্রহণের নিরপেক্ষ অবাধ নির্বাচন।
স্কারবোরো, কানাডা

