কানাডায় বেকারত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে

কানাডায় বেকারত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে - the Bengali Times
একটা সময় ছিল স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা মোটামুটি সবাই সামারে জব করতো কিন্তু বছর দুয়েক ধরে সে আশায় গুড়ে বালি কানাডায় বেকারত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে

একটা সময় ছিল স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা মোটামুটি সবাই  সামারে জব করতো কিন্তু বছর দুয়েক ধরে সে আশায় গুড়ে বালি। কানাডায় বেকারত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে।

এমনও সময় ছিল সামার জব করে শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি এবং খরচের কিছু অংশ তুলে নিয়ে আসতে পারতো।

- Advertisement -

সামার জব শুধু চাকরির বাজারে প্রবেশের বিষয় নয়,  এরকম চাকরিতে ঢুকে তরুণ তরুণীরা নতুন করে নেটওয়ার্কিং গড়ে তোলে,  সেলস থেকে শুরু করে মার্কেটিং সহ বিভিন্ন বিষয়ে  দক্ষতা অর্জনের ব্যাপার তো আছেই।

গিগ অর্থনীতিতে  অনিশ্চিত স্বল্পমেয়াদী ও স্বল্পমজুরির কাজের ধরন  এবং বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা একটি প্রজন্মগত পরিবর্তন নিয়ে এসেছে  কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে, যেখানে অনেক শিক্ষার্থী একেবারেই কোনো চাকরি খুঁজে পাচ্ছে না।

এজন্য অনেকেই অতিমাত্রায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট এর বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসছে। বলা হচ্ছে তাদের কারণে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে অনেক বেশি।

২০২৪ সালে, কানাডিয়ান ন্যাশনাল এক্সহিবিশন শিরোনাম হয়েছিল যখন তাদের জব ফেয়ারে ৩৭ হাজার ছেলে মেয়ে  রেজিস্ট্রেশন করে  — এই মাত্রায় যা আগে কখনো হয়নি।  ১৮ দিনব্যাপী এই ইভেন্টের জন্য মাত্র পাঁচ হাজার লোকের কাজের সুযোগ ছিল।

সিজনাল  চাকরির বাজার যদিও নিয়মিত চাকরির বাজারের সাথে তুলনা করা যায় না,   তবুও  সামগ্রিক চাকরির বাজার এবং অর্থনীতির অবস্থা এই সামার জবের পরিস্থিতি  থেকে ধারণা করা যায় । করোনার পর চাকরির বাজারে  যে রমরমা অবস্থা দেখা গিয়েছিল — যা ২০২২ সালে ছিল সবচেয়ে বেশি  এবং ২০২৩ সালেও মোটামুটি ভালই  ছিল — সেটি ২০২৪ সালে এসে বেশ নাজুক হয়ে পড়ে । কারণ কোম্পানিগুলো ইনফ্লেশন  এবং সুদের হার না কমাতে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে গেছে ।

ইকোনমি যখন শক্তিশালী থাকে, তখন কর্মীরা ভালো ও বেশি বেতনের খোঁজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চাকরি বদল করে । কিন্তু ইকনোমি নাজুক হয়ে গেলে, কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যায় আর তারা সাধারণত নিজেদের  বর্তমান চাকরিতেই থেকে যায়।  ফলে তরুণ এবং কম অভিজ্ঞরা চাকরির বাজারে প্রবেশের আর সুযোগ পায় না অথবা  তাদের সুযোগের পরিমাণ আরো কমে যায়।

আগের সেই দিন আর নেই, যখন হাতে একগুচ্ছ রিজিউমে নিয়ে চাকুরী প্রার্থীরা  রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বিভিন্ন জায়গায় ঢুকে পড়তে পারত। এখন সবকিছুই অনলাইনে করতে হয়।  নিয়োগদাতাদের জন্য এটা স্ক্যান করে দেখা সহজ, কিন্তু তারা হাজার হাজার রিজিউমে পাচ্ছে, ফলে  নামের সাথে  মুখ মেলানো তাদের আর হয়ে উঠে না ।

এক সময় সামার জবকে মনে করা হতো মূল কর্মজীবনে  প্রবেশের প্রথম ধাপ কিন্তু এখন ব্যাপারটা আর নিশ্চিত নয় । এর ফলাফল হিসেবে,  এমন অনেক তরুণকে আমরা দেখি যাদের বয়স এমনকি মধ্য বিশের কোটায় , মাস্টার্স ডিগ্রিও  আছে , কিন্তু জীবনে এখনো কোনো চাকরি করবার সুযোগ হয়নি।  কর্মজীবনে প্রবেশ করতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে ।

শিক্ষার্থীদের বেকারত্ব এখন সংকটজনক পর্যায়ে—আর এর প্রভাব ভবিষ্যতে সব কানাডিয়ানদের জন্যই বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

তথ্য প্রযুক্তি এবং প্রকৌশল এর বিভিন্ন বিষয়ে যারা কানাডায় পড়াশোনা করেছেন এবং চাকরির সুযোগ খুঁজছেন,   তাদের জন্য এই পোস্টারটি  দিয়ে দিলাম।  আশা করছি এ তথ্য তাদের কাজে লাগবে।

 

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles