
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক স্থাপনায় ইসরাইলি হামলায় তেহরানের অন্তত ১২ জন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন বলে ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থায় দাবি করা হয়েছে। এর আগে ইসরাইলের হামলায় ৯ জন শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছিল ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তবে, ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থায় বলা হয়েছে, শনিবার ইসরাইলের নতুন হামলায় আরও তিন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন।
আইডিএফ দাবি করে, ওই নয়জনের মধ্যে দুইজন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের জন্য ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের এজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ইসরাইলি গোয়েন্দা বিভাগের সংগৃহীত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইরানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী।
বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী বলেছে, এই বিজ্ঞানীদের হত্যা ইরানের সরকারের গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিভাগের সংগৃহীত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইরানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নতুন হামলায় ইরানের আরও তিনজন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন।
হামলায় নিহত ইরানি বিজ্ঞানীদের তালিকা প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ইরানি এই ৯ বিজ্ঞানী হলেন পারমাণবিক প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ ফেরেইদুন আব্বাসি, পদার্থবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি, রসায়ন প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ আকবর মোতালেবি জাদেহ, ম্যাটেরিয়াল প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ সাঈদ বারজি, পদার্থবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ আমির হাসান ফাখাহি, রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স বিশেষজ্ঞ আব্দ আল-হামিদ মিনোশেহর, পদার্থবিজ্ঞানী মানসুর আসগারি, পারমাণবিক প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ
আহমদ রেজা জুলফাগারি দারিয়ানি ও যান্ত্রিক প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ আলী বাখৌয়েই কাতিরিমি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, ‘‘যেসব বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের হত্যা করা হয়েছে, তারা ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানভাণ্ডার ছিলেন। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে তাদের কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা ছিল।’’
বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ইরানি এই বিজ্ঞানীদের অনেকেই মোহসেন ফাখরিজাদেহর উত্তরসূরি ছিলেন। ২০২০ সালে ইসরায়েলি হামলায় ফাখরিজাদেহ নিহত হন। ‘ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের জনক’ হিসেবে মনে করা হতো মোহসেন ফাখরিজাদেহকে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরের দিকে তেহরানে একযোগে চালানো হামলায় ওই ৯ বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। একই হামলায় আরও ডজনখানেক সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল; যাদের মধ্যে ছয়জন ছিলেন শীর্ষ পর্যায়ের।
গত এক বছর ধরে গোপনে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ইরানি বিজ্ঞানীদের হত্যা করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। এই পরিকল্পনার আওতায় অন্তত এক ডজন ইসরায়েলি গোয়েন্দা গবেষক বছরের পর বছর ধরে ইরানের প্রধান প্রধান পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের গতিবিধি নজরদারিতে রেখেছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

