
রাজনীতি মানেই যে নষ্টামি, রাজনীতি মানেই মিথ্যার বেশাতি, রাজনৈতিক বক্তব্য মানেই মিথ্যা কথা এইসব জেনে এসেছি ছোটবেলা থেকে বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক নেতার কার্যকলাপ, বক্তব্য বিবৃতি দেখে দেখে। সে কারণেই রাজনীতির প্রতি অনেক ভাল মানুষগুলোর অনীহা। মিথ্যুকদের সাথে মিশলে, আপনিও ধীরে ধীরে মিথ্যাবাদী হয়ে যাবেন অথবা ‘মিথ্যা বলা মহাপাপ’ কথাটা হালকাভাবে দেখা শুরু করবেন। প্রতিপক্ষকে মিথ্যার আঘাতে জর্জরিত করবেন, আহত করবেন, গুজব ছড়িয়ে হয়তো কারো ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিবেন, মানুষ খুনও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ধরা পড়লে বলবেন, আরে ওটাতো কথার কথা ছিল! ওটাতো আমি মিন করে বলি নি। ওটা ছিল রাজনৈতিক রেটোরিক! যুগের পর যুগ এমনকি অর্ধ শতাব্দী ধরে চলা টাউটারি রাজনীতির নিকৃষ্ট উত্তরাধিকারী কিছু নেতা নামধারী এখনো বেঁচে আছেন, তাদের পুর্বসুরী মিথ্যুক নেতাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে, তাদের পাপের বোঝা বহন করে চলেছেন, পাপের পতাকার ঝান্ডা যোগ্য কারো কাছে দিয়ে হয়তো কবরে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কথার ফুলঝুরি দিয়ে, আধাঘন্টার বক্তব্যে শতকরা নিরানব্বইটা মিথ্যা বলা একজন নেতার সর্বশেষ বেসাতী হলো ড. ইউনুসের লন্ডন সফর নিয়ে, “ইউনূস সাহেব যখন বাংলাদেশে সমস্ত পথ হারাইয়া ফেলছেন, উনি পথ পাওয়ার জন্য আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবের কাছে ১২ ঘণ্টা প্লেন চালাইয়া লন্ডন পর্যন্ত গেছেন। বলছেন, আমাকে একটু কথা বলার সুযোগ দেন।”
আমাদের ছাত্রজীবনে আমরা যখন রাজনীতির আনুষ্ঠানিক হাতে খড়ি নেই, তখন থেকেই উনাদের মিথ্যার ঝুড়ি নিয়ে মিষ্টি কথার বক্তব্য দিয়ে তাদের নেতা নেত্রীদের সন্তুষ্ট করতে দেখেছি। কিন্তু আজকের নুতন প্রজন্ম জেনে খুশী হবেন যে এইসব পাপিষ্ঠদের তখনকার তরুণ প্রজন্মও ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছিল যার প্রমাণ হলো সেই সত্তুর আশির দশকেও তিন তিনবার ডাকসু নির্বাচনে পরাজয় বরণ করা। এমনকি রাকসু, চাকসু, ইউকসু সহ অধিকাংশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদেরকে তৎকালীন তরুণ যুবকেরা কখনো নির্বাচিত করে নি। ভোট হলেই তারা পরাজিত হতেন। আজও তাই হবেন বলে বিশ্বাস করি। আশা করি দেশের মানুষ এদের থেকে সতর্ক থাকবেন।
স্কারবোরো, কানাডা

