বিয়ের পর আকর্ষণ কমে যাওয়ার ৫ বিস্ময়কর কারণ

বিয়ের পর আকর্ষণ কমে যাওয়ার ৫ বিস্ময়কর কারণ - the Bengali Times
ছবি সংগৃহীত

বিয়ের কিছুদিন পর অনেক দম্পতির মধ্যেই দেখা যায় একে অপরের প্রতি শারীরিক আকর্ষণ কমে যাচ্ছে। প্রেম ও সম্পর্কের শুরুর দিকে যে উষ্ণতা ও ঘনিষ্ঠতা দেখা যায়, তা যেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্লান হয়ে যায়। কেন এমনটি হয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে, সম্পর্ক ও বৈবাহিক জীবন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা তুলে এনেছেন নানা দিক।

সম্প্রতি, ২৭ এপ্রিল সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে ম্যারেজ কোচ ড. সপনা শর্মা তুলে ধরেছেন এমনই ৫টি বিস্ময়কর কারণ, যার ফলে বিবাহিত জীবনে ধীরে ধীরে একে অপরের প্রতি শারীরিক আকর্ষণ হ্রাস পেতে থাকে। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই কারণগুলো:

- Advertisement -

১. গোপনীয়তার অভাব:
ড. শর্মা জানান, আমাদের সমাজে দম্পতিদের গোপনীয়তা প্রায় অগ্রাহ্য করা হয়। পরিবারের সামনে স্পর্শ বা আলাদা সময় কাটানোকে অপসংস্কৃতি হিসেবে দেখা হয়। দিনের বেলায় বন্ধ ঘরে সময় কাটানো বা ব্যক্তিগত মুহূর্তের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দম্পতিদের সম্পর্ককে চাপে ফেলে দেয়।

২. বিয়ের পর ‘সফট ডেটিং’-এর অভাব:
বিয়ের পর দম্পতিরা আর আলাদা করে একসাথে সময় কাটান না। ঘোরাঘুরি, ভ্রমণ কিংবা খাওয়া-দাওয়ার সবকিছুই হয় সন্তান, বন্ধু বা আত্মীয়দের সঙ্গে। এতে করে দাম্পত্য জীবনে রোমান্টিক মুহূর্তগুলোর ঘাটতি তৈরি হয়।

৩. বাসায় অবহেলিত পোশাকচর্চা:
ড. শর্মা বলছেন, বাড়িতে অনেকেই পুরনো, ছেঁড়া বা পরিত্যক্ত পোশাক পরেন। সুন্দর পোশাক, সুগন্ধি বা সাজগোজ সাধারণত বাইরের লোক দেখানোর জন্যই রাখা হয়। এতে করে একে অপরের প্রতি আকর্ষণ অনেকটাই কমে যায়।

৪. শারীরিক সচেতনতার অভাব:
বিয়ের আগে শরীরচর্চা ও ডায়েট নিয়ে যতটা সচেতনতা দেখা যায়, বিয়ের পরে অনেকেই সেটি ধরে রাখতে পারেন না। কর্মব্যস্ত জীবন ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরের টোন ও এনার্জি হারিয়ে যায়। এটি শুধু ওজন নয়, শরীরের প্রাণবন্ততার সঙ্গেও সম্পর্কিত—যা আকর্ষণ টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিহার্য।

৫. ব্যক্তিত্ব ও কৌতূহলের অভাব:
সম্পর্কে নিরবধি ঘনিষ্ঠতা প্রয়োজন হলেও কিছুটা ‘স্পেস’ বা ব্যক্তিগত পরিসরও আকর্ষণ ধরে রাখার জন্য জরুরি। সম্পর্কের শুরুর দিকে যেসব গুণে একে অপরকে আকর্ষণীয় মনে হয়, দাম্পত্য জীবনে সেই স্বতন্ত্রতা হারিয়ে গেলে আকর্ষণও কমে যায়। অতিরিক্ত মিল খোঁজার চেষ্টায় বা একে অপরকে খুশি করতে গিয়ে ব্যক্তি পরিচয় মুছে যায়, যা শেষ পর্যন্ত রসায়ন নষ্ট করে।

ড. সপনা শর্মা মনে করেন, একটি সফল বিবাহিত জীবনের জন্য শুধু দায়িত্ব নয়, প্রয়োজন নিরবধি আকর্ষণ ও পারস্পরিক সম্মান। ব্যক্তিগত পরিচয়, ব্যক্তিগত সময় ও একে অপরকে নতুনভাবে জানার চেষ্টা—এই উপাদানগুলো সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী ও প্রাণবন্ত রাখতে সহায়তা করে।

 

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles