মার্শাল আর্টে বিশ্বসেরা, জীবনসঙ্গী খুঁজতে হিমশিম চীনা চ্যাম্পিয়ন ঝাং

মার্শাল আর্টে বিশ্বসেরা, জীবনসঙ্গী খুঁজতে হিমশিম চীনা চ্যাম্পিয়ন ঝাং - the Bengali Times
ঝাং ওয়েইলির

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে রিংয়ে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। একের পর এক লড়াই জিতে বিশ্বসেরার স্বীকৃতিও পেয়েছেন। অথচ জীবনের সঙ্গী খুঁজতে গিয়ে যেন সব কৌশলই ব্যর্থ হচ্ছে চীনের মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) তারকা ঝাং ওয়েইলির। ৩৬ বছর বয়সী এই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের আক্ষেপ, রিংয়ে লড়াই করার চেয়ে একজন উপযুক্ত বয়ফ্রেন্ড খুঁজে পাওয়া অনেক বেশি কঠিন।

সম্প্রতি চীনের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার পাপি জিয়াংয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবনের নানা কথা তুলে ধরেন ঝাং। সেখানে তিনি জানান, বিয়ের জন্য পরিবারের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বাবা-মা চলতি বছর থেকে তাঁকে বিয়ের বিষয়ে নিয়মিত তাগাদা দিচ্ছেন। কিন্তু নিজের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার কারণে চাইলেও সহজে পছন্দের মানুষ খুঁজে নিতে পারছেন না তিনি।

- Advertisement -

ঝাং জানান, অনলাইনে জীবনসঙ্গী খোঁজার চেষ্টা করেছেন। বেশ কয়েকটি ডেটিং ওয়েবসাইটও ঘুরে দেখেছেন। কিন্তু সেখানে নিবন্ধনের জন্য আসল নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে হয়। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সেই পথ থেকেও সরে আসতে হয়েছে তাঁকে।

সাক্ষাৎকারে নিজের প্রেমজীবনের জটিলতা নিয়ে মজার ছলে ঝাং বলেন, ‘আমার জন্য ইউএফসি বা এমএমএ রিংয়ে লড়াই করার চেয়ে বয়ফ্রেন্ড খোঁজা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ অনলাইনে অনেকেই রসিকতা করে বলেন, আমার সঙ্গে প্রেম করলে তাঁরা নাকি পারিবারিক সহিংসতার ভয়ে থাকবেন!’

যেমন জীবনসঙ্গী চান ঝাং

রিংয়ে কঠোর লড়াকু হিসেবে পরিচিত হলেও ব্যক্তিগত জীবনে ভালোবাসার একজন মানুষ খুঁজছেন ঝাং। তাঁর প্রত্যাশা, জীবনসঙ্গীর ব্যক্তিত্ব ভালো হবে, সহজে মানুষের সঙ্গে মিশতে পারবেন এবং চেহারায় আকর্ষণীয় হবেন।

নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন এই চ্যাম্পিয়ন। সংসারের দৈনন্দিন কাজ কিংবা ঘর সামলানোর বিষয়ে তিনি খুব একটা দক্ষ নন। তাই এমন একজন মানুষ চান, যিনি এসব ক্ষেত্রে তাঁকে সহযোগিতা করবেন।

ঝাংয়ের ভাষায়, ‘এমন একজন মানুষকে চাই, যাঁর সঙ্গে আমার দক্ষতার সমতা রক্ষা হবে। ঘরের কাজে যিনি আমাকে পরিপূরক হিসেবে সাহায্য করতে পারবেন।’

জীবনসঙ্গী যদি খুব বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিংবা অর্থ উপার্জনে সফল না-ও হন, তাতেও আপত্তি নেই তাঁর। বরং প্রয়োজনে সঙ্গীর সব দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ঝাং। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, আমি তাঁর সমস্ত দায়িত্ব নেব।’

তবে এখন পর্যন্ত কোনো চীনা পুরুষ তাঁকে সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দেননি। এক বিদেশি নাগরিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পার্থক্যের কারণে সেই সম্পর্কে জড়াতে রাজি হননি তিনি।

রিংয়ের লড়াকু থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

চীনের হেবেই প্রদেশের বাসিন্দা ঝাং ওয়েইলির মার্শাল আর্টের যাত্রা শুরু মাত্র ১২ বছর বয়সে। কঠোর অনুশীলন আর ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে একসময় জায়গা করে নেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এমএমএ প্রতিযোগিতা ইউএফসিতে।

২০১৯ সালে প্রথম চীনা নারী হিসেবে ইউএফসির স্ট্রওয়েট বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। ২০২২ সালে আবারও সেই শিরোপা পুনরুদ্ধার করেন। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এই বিভাগে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফাইটার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।

তবে খেলাধুলার এই সাফল্য ব্যক্তিগত জীবনে সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে খুব একটা কাজে আসছে না বলে মনে করেন ঝাং।

নারী ক্রীড়াবিদদের বিয়ে নিয়ে চাপ

ঝাংয়ের সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রিংয়ে কঠোর ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত এই নারী ক্রীড়াবিদের ব্যক্তিগত জীবনের কোমল দিকটি দেখে অনেকেই প্রশংসা করছেন।

তবে চীনে নারী ক্রীড়াবিদদের বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক চাপের ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে শটপুটে স্বর্ণজয়ী গং লিজিয়াও গত বছর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বিয়ের জন্য এবং সুন্দর দেখানোর উদ্দেশ্যে অন্তত ২৫ কেজি ওজন কমানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।

সব মিলিয়ে ঝাং ওয়েইলির জীবনে এখন এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। রিংয়ে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে বিশ্বজয় করলেও মনের মতো একজন মানুষ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। তবে এ নিয়ে হতাশ নন চীনের এই চ্যাম্পিয়ন। তাঁর বিশ্বাস, জীবনের লড়াইয়েও একদিন ঠিকই কাঙ্ক্ষিত সঙ্গীর দেখা পাবেন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles