
কানাডার সঙ্গে আলবার্টা প্রদেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে, তা নির্ধারণে ঐতিহাসিক গণভোটে অংশ নিয়েছেন প্রদেশটির ভোটাররা। সোমবার সকালে ক্যালগারির বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়। তাঁদের হাতে ছিল ভোট দেওয়ার চিহ্ন হিসেবে হলুদ রঙের ‘আই ভোটেড’ স্টিকার। এই গণভোটে কানাডার সঙ্গে থাকার প্রশ্নের পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতার সম্ভাবনা নিয়েও নিজেদের মতামত জানানোর সুযোগ পেয়েছেন ভোটাররা।
ক্যালগারির গ্রেস প্রেসবিটেরিয়ান চার্চে ভোট দিতে আসা স্কট হিলের কাছে দিনটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মাথায় লাল ম্যাপল লিফযুক্ত বেসবল ক্যাপ পরা হিল বলেন, তিনি অন্যদের মতামতকে সম্মান করেন। তবে তাঁর কাছে এই গণভোটের পুরো বিষয়টি কিছুটা অবাস্তব মনে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষেই ভোট দিয়েছেন।
হিল বলেন, আলবার্টার অনেক মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারেন। কিন্তু তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে বিভক্তির পরিবর্তে ঐক্যকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাঁর দাদার অংশগ্রহণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে দেওয়া ভোটটিকে নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোট হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথের উদ্যোগে আয়োজিত এই গণভোটে ১৩ লাখের বেশি ভোটার ইতিমধ্যে ডাকযোগে অথবা আগাম ভোট দিয়েছেন। ব্যালটে ভোটারদের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল, তাঁরা কানাডার সঙ্গে থাকতে চান, নাকি কনফেডারেশন থেকে আলবার্টার বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে দ্বিতীয় ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের পক্ষে।
২০২৩ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে স্মিথের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড কনজার্ভেটিভ পার্টি (ইউসিপি) আলবার্টাকে কানাডা থেকে আলাদা করার জন্য গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে ফেডারেল সরকারের নীতি নিয়ে প্রদেশটির একাংশের অসন্তোষ রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্মিথের বক্তব্য অনুযায়ী, সাবেক লিবারেল প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের সময় জমে ওঠা ক্ষোভ আলবার্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। প্রদেশটিকে কানাডার সঙ্গে রাখার পক্ষে এবং বিচ্ছিন্নতার দাবিতে উভয় পক্ষের পিটিশনেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের স্বাক্ষর জমা পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য গণভোট প্রয়োজন বলে মনে করেন স্মিথ। তাঁর মতে, ভোটারদের সরাসরি মতামত জানার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো সম্ভব।
গণভোটের ব্যালটে মোট ১০টি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আলবার্টার কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি একটি। বাকি নয়টি প্রশ্নের মূল বিষয় অভিবাসন ও সংবিধানসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব। ফলে এই ভোট কেবল আলবার্টার কানাডার অংশ হিসেবে থাকার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। প্রদেশটির অভিবাসননীতি, সাংবিধানিক ক্ষমতা এবং ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও ভোটারদের মনোভাব বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আলবার্টার এই গণভোট কানাডার ফেডারেল কাঠামোর মধ্যে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, জাতীয় ঐক্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রদেশগুলোর সম্পর্ক নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। ভোটের ফলাফল প্রদেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

