উত্তর আমেরিকায় ২৫০ স্টোর বন্ধ করছে স্টারবাকস

উত্তর আমেরিকায় ২৫০ স্টোর বন্ধ করছে স্টারবাকস - the Bengali Times
২৫০টি কফিশপ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বখ্যাত কফি চেইন স্টারবাকস

উত্তর আমেরিকায় প্রায় ২৫০টি কফিশপ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বখ্যাত কফি চেইন স্টারবাকস। কোম্পানিটির মোট স্টোরের সংখ্যা ১৮ হাজারের বেশি। সেই হিসাবে বন্ধ হতে যাওয়া স্টোরের সংখ্যা মোট স্টোরের প্রায় ১ শতাংশ। তবে কোন কোন এলাকায় স্টোরগুলো বন্ধ করা হবে, কিংবা এর মধ্যে কানাডায় কতটি রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি কোম্পানিটি।

কর্মীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে স্টারবাকসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাইক গ্রামস জানিয়েছেন, যেসব স্টোর বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাশিত আর্থিক ফলাফল দিতে পারছে না। পাশাপাশি, গ্রাহক ও কর্মীদের জন্য স্টারবাকস যে ধরনের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে চায়, সেসব স্টোর তার মানদণ্ডও পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

- Advertisement -

গ্রামসের ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানির লক্ষ্য হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে গ্রাহকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারবেন এবং কর্মীরাও নিজেদের কর্মস্থল নিয়ে গর্ববোধ করবেন। প্রতিটি কফিশপকে সেই প্রত্যাশার উপযোগী করে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্টারবাকসের ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তনের উদ্যোগ শুরু হয় ২০২৪ সালে। সে সময় কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রায়ান নিকোল গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার লক্ষ্যে নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এই পরিকল্পনার আওতায় পানীয়ের বিনামূল্যে রিফিল, কন্ডিমেন্ট বার ফিরিয়ে আনা, গ্রাহকসেবার মান উন্নত করা এবং মেনু আরও সহজ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্টারবাকসের কফিশপগুলোকে গ্রাহকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা এবং সেবার মান বাড়ানো।

তবে নতুন কৌশলের পাশাপাশি স্টোর বন্ধের সিদ্ধান্ত কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও সামনে এনেছে। আর্থিকভাবে দুর্বল এবং কাঙ্ক্ষিত সেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ স্টোরগুলো বন্ধ করে অন্য স্টোরগুলোর কার্যকারিতা উন্নত করাই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কোম্পানিটি।

বন্ধ হতে যাওয়া স্টোরগুলোর তালিকা প্রকাশ না করায় কানাডায় এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে, যেসব স্টোর বন্ধ হবে, সেগুলোর মধ্যে কতটিতে শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেয়নি স্টারবাকস।

স্টারবাকসের কর্মীদের ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ কয়েক বছর ধরেই কোম্পানিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবিষয়ক ইস্যু হয়ে রয়েছে। ২০২১ সালের শেষ দিকে কোম্পানিটির বিভিন্ন স্টোরে কর্মীরা ইউনিয়ন গঠনের পক্ষে ভোট দিতে শুরু করেন। তবে ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি কোম্পানি সমর্থন করেনি। এ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যেও স্টারবাকস ও ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা এখন পর্যন্ত কোনো শ্রমচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি।

এ অবস্থায় নতুন করে ২৫০টি স্টোর বন্ধের সিদ্ধান্ত কর্মীদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, ইউনিয়নভুক্ত স্টোরগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে কি না, সে বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। স্টারবাকসের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিটি কফিশপকে গ্রাহক ও কর্মীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলাই তাদের লক্ষ্য। তবে কোন স্টোরগুলো বন্ধ হবে এবং এর ফলে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা জানতে আরও বিস্তারিত ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles