
আদিবাসীবিষয়ক বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মীদের ‘স্টেকহোল্ডার’ শব্দটি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে টরন্টো সিটি হল। শব্দটির ঔপনিবেশিক শিকড় এবং আদিবাসীদের পরিচয় ও অধিকারের সঙ্গে এর অসংগতির বিষয়টি সামনে এনে এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে ফাঁস হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় শব্দটির ব্যবহার নিয়ে দুটি পরস্পর সম্পর্কিত, তবে কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে।
প্রথম দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, আদিবাসীদের ‘স্টেকহোল্ডার’ বা অংশীজন হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। কারণ, তাঁদের পরিচয় কেবল কোনো সিদ্ধান্তে আগ্রহী পক্ষ হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাঁরা নিজস্ব অধিকারসম্পন্ন জনগোষ্ঠী। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বলা হয়েছে, শব্দটির ঔপনিবেশিক উৎসের কারণেই এর ব্যবহার সমস্যাজনক। তাই আরও সুনির্দিষ্ট ও সম্মানজনক পরিভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর এই শব্দ থেকে সরে আসা উচিত।
তবে এ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার উৎস সম্পর্কে নথিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গবেষণাটি কারা করেছেন, কোন পদ্ধতিতে তা পরিচালিত হয়েছে কিংবা এর সিদ্ধান্তের পেছনে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নথিটির একটি অনুলিপি চেয়ে আবেদন করা হলে টরন্টো সিটি হল তা সরাসরি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, নথিটি পেতে হলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সিটি হলের কাছে আরও ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সেটিরও জবাব এড়িয়ে যায় সিটি কর্তৃপক্ষ। ওই পোস্টে সিটি হলের সমতা ও অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে ‘গণ-আদর্শিকীকরণের আচার-অনুষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। তবে পোস্টটির বক্তব্য সম্পর্কে সিটি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নয় পৃষ্ঠার নথিটির শিরোনাম ‘ন্যাশনাল ডে ফর ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন ২০২৬ লার্নিং জার্নি প্যাকেজ’। এটি টরন্টো সিটি হলের পরিবহন সেবা বিভাগের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে সিটি হলের অন্য বিভাগগুলোর জন্যও একই ধরনের প্রশিক্ষণ উপকরণ তৈরি করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টরন্টো সিটি হলের এই উদ্যোগে একদিকে আদিবাসীদের অধিকার ও তাঁদের প্রতি সম্মানজনক ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, অন্যদিকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির স্বচ্ছতা এবং এর পেছনে ব্যবহৃত গবেষণার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নথিটির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় কর্মীদের জন্য নির্দেশনাটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

