
মর্টগেজ আবেদনে ঋণদাতাদের কাছে জেনেশুনে ভুয়া চাকরি ও আয়ের তথ্য দেওয়ার ঘটনায় ৪০ হাজার ডলার জরিমানা দিতে রাজি হয়েছেন কানাডার সাবেক এক মর্টগেজ ব্রোকার। এ ঘটনায় তদন্তের পর ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস রেগুলেটরি অথরিটি অব অন্টারিওর (এফএসআরএ) সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন পরমজিৎ কাউর।
এফএসআরএ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, কাউর ট্রিলিয়াম মর্টগেজ সার্ভিসেস ইনকর্পোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্রোকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাউর স্বীকার করেছেন, একাধিক মর্টগেজ আবেদনে তিনি জেনেশুনে ঋণদাতাদের কাছে আবেদনকারীদের চাকরি ও আয়ের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এসব আবেদনের মধ্যে অন্টারিওর হ্যামিল্টনে একটি বাড়িতে বসবাসকারী এক নিম্ন আয়ের কলেজ শিক্ষার্থীর আবেদনও ছিল।
এফএসআরএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মে মাসে এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগকারী জানান, বাড়িটির নিবন্ধিত মর্টগেজের পরিমাণের সঙ্গে সম্মত হওয়া অর্থের অমিল রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
এরপরের মাসে কাউর, ট্রিলিয়াম মর্টগেজ সার্ভিসেসের প্রধান ব্রোকার ফ্রাঙ্ক মানজো এবং তৃতীয় পক্ষের ব্যক্তি ভটসাল পরেশকুমার খামারের বিরুদ্ধে নোটিশ ও কমপ্লায়েন্স আদেশ জারি করা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে খামারের সঙ্গে কাউরের পরিচয় হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়েছিল শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপনের ওয়েবসাইট কিজিজিতে। এফএসআরএর তথ্য অনুযায়ী, খামারের কখনোই বৈধ মর্টগেজ ব্রোকার লাইসেন্স ছিল না।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পরমজিৎ কাউরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মর্টগেজ আবেদন প্রক্রিয়ায় সঠিক তথ্য প্রদান এবং লাইসেন্সসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে এই ঘটনা। ঋণদাতাদের কাছে ভুল বা মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রতি আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

