
কানাডার পার্লামেন্ট হিল উড়িয়ে দেওয়া এবং টরন্টোর বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার দায়ে দণ্ডিত জাকারিয়া আমারা পূর্ণাঙ্গ প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। প্যারোল বোর্ড অব কানাডা জানিয়েছে, তার মধ্যে বর্তমানে চরমপন্থী বিশ্বাস বা মৌলবাদী আদর্শের প্রতি আনুগত্যের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
টরন্টো ১৮ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন ৪১ বছর বয়সী আমারা। ওই গোষ্ঠীর পরিকল্পনা ছিল কানাডার পার্লামেন্ট ভবন উড়িয়ে দেওয়া এবং টরন্টো ও এর আশপাশের একাধিক স্থানে বোমা হামলা চালানো।
শুক্রবার প্রকাশিত প্যারোল বোর্ডের লিখিত সিদ্ধান্তে বলা হয়, কারাগারে থাকাকালে আমারা চরমপন্থী আদর্শ থেকে সরে আসার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। পাশাপাশি, প্যারোলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুনর্বাসনের পথে অগ্রসর হয়েছেন এবং তার মনোভাব ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বোর্ডের দুই সদস্যের প্যানেল জানায়, একদিনের প্যারোলসহ বিভিন্ন পর্যায়ে মুক্ত পরিবেশে চলাফেরার সময় আমারাকে কঠোর তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল। তার ইন্টারনেট ব্যবহার, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, বন্ধুত্ব এবং সম্পর্কের ওপর নজরদারি করা হয়। এসব পর্যবেক্ষণে নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক কোনো পরিস্থিতি কিংবা প্যারোলের শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে একাধিক শর্তে চার বছরের জন্য প্যারোলে ছিলেন আমারা। গত সপ্তাহে তার মামলার পর্যালোচনা শেষে বোর্ড তাকে পূর্ণাঙ্গ প্যারোল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পূর্ণাঙ্গ প্যারোল পেলেও তার ওপর নজরদারি ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ পুরোপুরি উঠে যাচ্ছে না। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে। ২০০৬ সালের জুনে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি চরমপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের সঙ্গেও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে তার।
অন্যদিকে, বিশেষায়িত কোনো কর্মসূচিতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে তাকে। পাশাপাশি কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিতে হবে এবং তার আর্থিক পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও নির্ধারিত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।
টরন্টো ১৮ সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের তদন্তের অংশ হিসেবে আমারা গ্রেপ্তার হন। একটি গুদামে বোমা তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহের দিন তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে সাজা ঘোষণার সময় প্রথম ১০ বছর প্যারোলের সুযোগ না রাখার শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। ওই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করলেও আদালত আগের সাজা বহাল রাখেন।
প্যারোল বোর্ডের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তার পুনর্বাসনের অগ্রগতি এবং চরমপন্থী আদর্শ থেকে সরে আসার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে তার ওপর আরোপিত শর্তগুলো থেকে স্পষ্ট যে, মুক্ত জীবনে তার আচরণ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা এখনো বহাল রয়েছে।

