
অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে সহ-অভিনেতার আচরণে একাধিকবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, অভিনয়ের সময়ও সহশিল্পীর ব্যক্তিগত সীমারেখা ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি।
সিদ্ধার্থ কাননের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনুপ্রিয়াকে প্রশ্ন করা হয়, কোনো সহ-অভিনেতা কখনো অভিনয়ের সুযোগে সীমা অতিক্রম করেছেন কি না। জবাবে তিনি জানান, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন একাধিকবার।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, একটি চুমুর দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় সহ-অভিনেতার আচরণে তিনি অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। ওই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন আচরণ করেননি বলে তার মনে হলেও, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার বিষয়টি তার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। এতে তিনি অপমানিত বোধ করেন।
আরেকটি ঘটনার কথা জানিয়ে অনুপ্রিয়া বলেন, একবার অস্বস্তিকর পোশাকে শুটিং করার সময় সহ-অভিনেতার কাছ থেকে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ আশা করেছিলেন। কিন্তু তার আচরণে পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর হয়ে ওঠে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানানো সহজ ছিল না বলে জানান অভিনেত্রী। তার আশঙ্কা ছিল, অভিযোগ তুললে ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়া হতে পারে। পরে ব্যক্তিগতভাবে ওই সহ-অভিনেতাকে আচরণে সংযত হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। অনুপ্রিয়ার দাবি, পরে ওই ব্যক্তি তার কথা বুঝতে পেরেছিলেন। তবে কারও নাম প্রকাশ করেননি অভিনেত্রী।
চুমুর দৃশ্যের শুটিং প্রসঙ্গে অনুপ্রিয়ার বক্তব্য, এমন দৃশ্য স্বাভাবিকভাবেই ধারণ করা সম্ভব। কিন্তু অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করলে তা অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে পারস্পরিক সম্মতি, সহযোগিতা ও ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি শ্রদ্ধা থাকা জরুরি।
‘ববি জাসুস’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়জগতে পা রাখেন অনুপ্রিয়া। পরে ‘ঢিশুম’, ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’, ‘পদ্মাবত’ ও ‘ওয়ার’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। বড় পর্দার পাশাপাশি ‘সেক্রেড গেমস’, ‘ক্রিমিনাল জাস্টিস’, ‘আশ্রম’ ও ‘সুলতান অব দিল্লি’র মতো ওয়েব সিরিজেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।
অনুপ্রিয়ার অভিজ্ঞতা আবারও সামনে এনেছে, পর্দার অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রেও অভিনয়শিল্পীদের সম্মতি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

