
কুইবেকের প্রাদেশিক নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর ভোটের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছেন লিবারেল পার্টির নবনির্বাচিত এমএনএ নাদা বোমেফতাহ। মন্ট্রিয়লের মোরিস-রিচমন্ড আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে জয়ী হওয়ার পর একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তাঁর উচ্ছ্বসিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাত পেরিয়ে সকাল হওয়ার আগেই সেই বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
সাক্ষাৎকারে বোমেফতাহ বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ‘লাল ঢেউ’ উঠেছে এবং বল এখন তাঁর দখলে। কুইবেক লিবারেল পার্টির নির্বাচনী রং লাল হওয়ায় তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত অনলাইনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সাক্ষাৎকারের ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর বক্তব্য, উপস্থাপনার ধরন এবং নির্বাচনী জয়ের মুহূর্তের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ না করে মঙ্গলবার বোমেফতাহ বলেন, ওই মুহূর্তের জন্য তিনি গর্বিত। তাঁর ভাষায়, ‘এটাই আমার আসল সত্তা।’
রাজনীতিতে প্রবেশের আগে বোমেফতাহর পরিচিতি ছিল মূলত আইন পেশাকে কেন্দ্র করে। তিনি একজন ফৌজদারি আইনজীবী। ২০১৬ সালে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। পরে আইসিআই, আরডিআই ও নুভোতে আইনি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মন্তব্যকারী হিসেবেও পরিচিতি পান। চলতি বছরের শুরুতে কুইবেক সংস্করণের রিয়েলিটি প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘দ্য ট্রেইটর্স’-এ অংশ নেওয়ার মাধ্যমেও তিনি দর্শকদের সামনে আসেন। তবে প্রাদেশিক নির্বাচনে জয় এবং পরবর্তী টেলিভিশন সাক্ষাৎকার তাঁকে আরও বৃহত্তর আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কুইবেক লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে মোরিস-রিচমন্ড আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সদস্য হিসেবে কুইবেকের জাতীয় পরিষদে যাওয়ার পথ তৈরি করেন বোমেফতাহ।
মোরিস-রিচমন্ড আসনে বোমেফতাহর জয় সহজ ছিল না। কুইবেক সলিডেয়ারের প্রার্থী অ্যানি ল্যাটেনড্রেসের সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল অত্যন্ত কাছাকাছি। এর আগে আসনটি প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কুইবেক সলিডেয়ারের হারুন বাওয়াজি। প্রদত্ত ভোটের হিসাবে বোমেফতাহ পেয়েছেন ৩১ দশমিক ০৭ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, ল্যাটেনড্রেস পেয়েছেন ৩০ দশমিক ০৯ শতাংশ। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান মাত্র ০.৯৮ শতাংশ পয়েন্ট। আসনটিতে অন্যান্য প্রার্থীর ভোটের হার ছিল যথাক্রমে: আইশা ইসা, পার্টি কুইবেকো: ২৬.৬৯ শতাংশ, জর্জেস চার্টিয়ের, কোয়ালিশন অ্যাভেনির কুইবেক: ৮.১১ শতাংশ, মার্সিডিউ ডোরিউস, কনজারভেটিভ পার্টি অব কুইবেক: ৫.৪২ শতাংশ, আইজ্যাক ভারিন, পার্টি নুল: ০.৬৩ শতাংশ। ফলাফল থেকে বোঝা যায়, আসনটিতে একাধিক দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমর্থন বিভক্ত ছিল। বোমেফতাহর জয় এসেছে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় সামান্য বেশি ভোট পাওয়ার মাধ্যমে।
কুইবেকের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর নতুন জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। তবে বোমেফতাহর ক্ষেত্রে নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং জনসমক্ষে নিজেকে উপস্থাপনের ধরন। টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তাঁর আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের ক্লিপ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। মঙ্গলবার তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, ভাইরাল হওয়া সেই মুহূর্তকে তিনি নিজের ব্যক্তিত্বের স্বাভাবিক প্রকাশ হিসেবেই দেখছেন।
মোরিস-রিচমন্ড আসনে তাঁর জয় তাই দুটি কারণে গুরুত্ব পেয়েছে একদিকে অল্প ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়, অন্যদিকে নির্বাচনের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া। এখন দেখার বিষয়, আইন পেশা ও গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজনীতিতে আসা বোমেফতাহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কীভাবে নিজের ভূমিকা পালন করেন। নির্বাচনী প্রচারের উচ্ছ্বাসের পর আইনসভায় তাঁর কাজ এবং এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়গুলোই তাঁর রাজনৈতিক পথচলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠবে।

