ধর্ষণের বিচার চেয়ে অনশন, সেই ৮০ বছরের বৃদ্ধার বিয়ে ৭০ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে

ধর্ষণের বিচার চেয়ে অনশন, সেই ৮০ বছরের বৃদ্ধার বিয়ে ৭০ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে - the Bengali Times
৮০ বছর বয়সি শাহিদা বেগম

ধর্ষণের বিচার চেয়ে অভিযুক্ত ৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধের বাড়িতে টানা চার দিন অনশন করেছিলেন ৮০ বছর বয়সি শাহিদা বেগম। শেষ পর্যন্ত সেই বৃদ্ধের সঙ্গেই তার বিয়ে দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নিকাহ রেজিস্টারের কার্যালয়ে শুক্রবার রাতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার কলেজ রোডের নিকাহ রেজিস্টার লোকমান হোসেনের কার্যালয়ে আরশেদ আলী ও শাহিদা বেগমের বিয়ে পড়ানো হয়। এতে আরশেদ আলীর ছেলে জুয়েল হোসেন ও তার দুই আত্মীয় সাক্ষী ছিলেন।

- Advertisement -

শাহিদার পরিবারের অভিযোগ, গত রোববার রাতে গোপালপুর উপজেলার দিগলআটা গ্রামের কবিরাজ আরশেদ আলী ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে শাহিদাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। তার চিৎকার শুনে নাতি রাসেল সেখানে গিয়ে আরশেদ আলীকে আটক করেন বলেও দাবি পরিবারের। পরে আরশেদের স্বজনরা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ।

ঘটনার বিচার না পেয়ে মঙ্গলবার থেকে আরশেদ আলীর বাড়িতে অনশন শুরু করেন শাহিদা। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে সেখানে অনশনরত অবস্থায় দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফজুর রহমানের দাবি, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আরশেদ আলী, তার ছেলে জুয়েল ও স্বজনরা শাহিদাকে একটি ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে ঘাটাইলের একটি নিকাহ রেজিস্টারের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়।

শাহিদার পরিবারের আরও অভিযোগ, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। বরং কয়েক ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার পর সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

আরশেদ আলীর ছেলে জুয়েল হোসেন দাবি করেন, তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগটি মিথ্যা। তার ভাষ্য, পারিবারিক সম্মান রক্ষায় শাহিদাকে রাজি করিয়ে ৫০ হাজার টাকা কাবিনে দুজনের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গোপালপুর থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, শাহিদা থানায় এসে অভিযোগ না করায় মামলা নেওয়া হয়নি। কাউকে থানায় আটকে হয়রানি করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী মামলা করতে এলে আইন অনুযায়ী তা গ্রহণ করা হবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles