সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর কে এই মদ ব্যবসায়ী শেখ নূর

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর কে এই মদ ব্যবসায়ী শেখ নূর - the Bengali Times

অভিযান চালিয়ে শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড এর শুল্কমুক্ত মদ মজুত রাখার চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করা হয়েছে

কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক ঘটনায় আলোচনায় আসার পর এবার সামনে এসেছে তাঁর শ্বশুর শেখ নূর ইসলামকে ঘিরে কর ও অর্থ লেনদেনের অনুসন্ধানের তথ্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের অনুসন্ধানে নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কানাডার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নূর ইসলাম পরিবারের তিন সদস্যের নামে কানাডার বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৪৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরিবারের নয় সদস্যের করসংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

তবে নূর ইসলাম পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল। সংস্থাটির এক কর্মকর্তার ভাষ্য, এটি নিয়মিত অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ।

আয়কর নথিতে অসংগতি

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শেখ নূর ইসলামের আয়কর নথিতে অসংগতি পাওয়া গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি রেমিট্যান্স হিসেবে ৯৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা দেশে আনার তথ্য দেখিয়েছেন। একই সময়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১০৪ কোটি টাকা এবং আয়কর দেওয়া হয়েছে ৬৯ লাখ টাকা।

এর আগের অর্থবছরে তাঁর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছিল ১৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং কর দেওয়া হয়েছিল ৫ কোটি টাকা। বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য আয়কর বিবরণীতে যথাযথভাবে দেখানো হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কানাডায় বড় অঙ্কের লেনদেন

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কানাডার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৫০ লাখের বেশি কানাডীয় ডলারের লেনদেন হয়েছে। এসব হিসাবে ১৬৫টি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন, বৈদ্যুতিন অর্থ স্থানান্তর এবং সীমান্তপারের মুদ্রা লেনদেনের তথ্য রয়েছে। এসব লেনদেনে কানাডীয় ডলারের পাশাপাশি মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড, সিঙ্গাপুরি ডলার ও থাই বাথ ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ও কানাডায় ব্যবসা

আয়কর নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে শেখ নূর ইসলামের নাম রয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য, পর্যটন, গণমাধ্যম, আবাসন ও অন্যান্য খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কৃষি খাতেও তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে বলে অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

কানাডাতেও তাঁর ব্যবসা রয়েছে। সেখানে ‘জুম জুম পিজা’র সঙ্গে তিনি যুক্ত। তাঁর স্ত্রী শিলা ইসলামও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের অন্য সদস্যদের নামেও কানাডার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একক ও যৌথ ব্যাংক হিসাব থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, কানাডায় নাগরিকত্ব ও স্থাবর সম্পদের তথ্য বাংলাদেশে দাখিল করা আয়কর বিবরণীতে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশ থেকে কানাডায় অর্থ স্থানান্তরের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

তবে এসব লেনদেনের প্রকৃতি, অর্থের উৎস এবং আইন ভঙ্গের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles