
বাংলাদেশে এখন শরত কাল।চারিদিকে শরতের শোভা। বাতাসে দুলছে কাশবনের কাশফুল। দেখলে মনে হয় হাত বাড়িয়ে ছুয়ে দেই কাশফুলের নরম পাপড়ি গুলো। মাথার উপরে শরতের নীল আকাশ ,নীল আকাশে ভেসে যাচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। প্রকৃতির টানে মন ছুটে যায় বাংলাদেশে। গান গেয়ে উঠি “এমন দেশটি কোথাওখুঁজে পাবে নাকো তুমি সকল দেশের সেরা সেযে আমার জন্মভুমি “।
আমি বসে লিখছি কানাডার টরোন্ট শহরে থেকে এখানে এখন পাতাঝরার সময়।চারিদিকে ঝরা পাতার খেলা।বাতাসে পাতা উড়ে বেড়াচ্ছে। আমার বাড়ির চারপাশে ঝরা পাতা ছড়িয়ে আছে।কোন কোন গাছ নানা রঙে নিজেকে সাজিয়ে তুলেছে,লাল,হলুদ,কমলা রঙে।দলেদলে মানুষ যাচ্ছে পাতার রঙ দেখতে। যাকে বলা হয় ফল কালার।খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে ফল কালার যে রং দেখে মানুষের মনও রঙিন হয়ে উঠে।তারপর ঝরতে থাকে রঙিন পাতাগুলো। পাতা বিহীন গাছ গুলো করুন ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।দেখে মনে হয় সন্তান হাঁরানো মায়েদের বেদনা কাতর বদন।
ঝরা পাতা মানেই শীতের আগমন বার্তা। রঙিন পাতা দেখার আনন্দ ম্লান হয়ে যায় শীতের আগমন বার্তায়। হাড় কাঁপানো শীত। ক্ষনে ক্ষনে তুষারপাত।প্রতি বছরই বলি ইস্ এবারের শীতের মতো এমন শীত কখনো পড়েনি।আসলে প্রতি বছরই এমন শীত পড়ে শুধু আমাদের স্মরণ শক্তির বিভ্রান্তি ঘটে।
শীত মানেই অশান্তি ,স্বাধীনতার ব্যঘাত,যখন তখন ইচ্ছে মতো বের হওয়া সম্ভব হয় না। নানা রকমের প্রতিকুলতা। একগাদা কাপড় চরাও বুট জুতা পড়, মোটামুটি একটা অসহ্য জীবন। তারপরও সব কিছু মেনে নিয়েই চলা।প্রিথিবীর একপ্রান্তে শরতের আনন্দে ভরা জীবন আর নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর আরেক প্রান্তে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ সূর্য মুখ লুকিয়ে থাকে মেঘের আড়ালে তার সাথে শীতের ক্লান্তিময় জীবন। তারপরও জীবন চলে জীবনের তাগিদে। জীবন যেখানে যেমন তাকে সেভাবেই মানিয়ে নিতে হয়।

