৫১ বছরে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

৫১ বছরে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব - the Bengali Times
বিপুল সংখ্যক সিনেমার উপস্থিতিই এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের অন্য কোনও চলচ্চিত্র উৎসবে এক আসরে এত বেশি সিনেমা প্রদর্শনের নজির নেই

কানাডার টরন্টো শহরে শেষ হলো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় আয়োজন টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৫১তম আসর। ১০ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরের এন্টারটেইনমেন্ট ডিস্ট্রিক্টজুড়ে চলে এই আয়োজন। ১০ দিনের উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ২৯৩টি চলচ্চিত্র রেড কার্পেট প্রিমিয়ারে প্রদর্শিত হয়েছে।

বিপুল সংখ্যক সিনেমার উপস্থিতিই এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্য কোনও চলচ্চিত্র উৎসবে এক আসরে এত বেশি সিনেমা প্রদর্শনের নজির নেই।

- Advertisement -

রজার্সের সহযোগিতায় আয়োজিত এবারের ১০ দিনের উৎসবে হলিউডসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বহু পরিচিত তারকা, নির্মাতা ও চলচ্চিত্রকর্মী অংশ নেন। সিনেমার প্রদর্শনের পাশাপাশি রেড কার্পেট ঘিরেও দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। এবারের আসরে প্রদর্শিত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে ছিল স্টিফেন ব্রিজের ‘আ গুড লিটল সোলজার’, ওয়ার্নার হারজগের ‘বাকিং ফাস্টার্ড’, কোডি ফার্নের ‘ক্লোজিং নাইট’, বাই জুয়ের ‘ইট’স মাই টাইম’ এবং ন্যানি মোরেত্তির ‘ইট উইল হ্যাপেন টুনাইট’।

এ ছাড়া স্কট ম্যাফেডিয়েন ও স্যাম ডানের ‘নেইল পিয়ার্ট: নো ওয়ান’স ডিসাইপল’, মালগোরজাটা সুমাউস্কা ও মাইলে এঙ্গলার্টের ‘দি ইডিয়ট(স)’, গাই নেটিভের ‘দি লিবারেশন’, পিটার হো-সান চ্যানের ‘দি রোড নট টেকেন’, বাহমান ঘোবাদির ‘ট্রিস আর ওয়াচিং’ এবং মার্টিন ম্যাকডোনার ‘ওয়াইল্ড হর্স নাইন’-ও এবারের উৎসবের আলোচিত প্রিমিয়ারগুলোর তালিকায় ছিল।

শুধু সিনেমা দেখাই নয়, রেড কার্পেটে প্রিয় তারকাদের এক ঝলক দেখার সুযোগ করে দিতে দর্শকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। প্রিন্সেস অব ওয়েলস থিয়েটার এবংরয়্যাল আলেক্স্যান্ডার থিয়েটারের রেড কার্পেটের অনুষ্ঠান দেখতে কিং স্ট্রিট বরাবর দুটি ফ্যান ভিউয়িং এলাকা তৈরি করা হয়। এই দুটি এলাকায় প্রবেশের জন্য দর্শকদের কোনও টিকিট কাটতে বা আলাদা করে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়নি। ফলে সিনেমাপ্রেমীদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকদের মধ্যেও রেড কার্পেট ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

দর্শকদের জন্য ডেভিড পিকোট স্কয়ারেও রাখা হয়েছিল তিনটি বিশেষ ফ্যান জোন। এগুলো হলো – টিফ ফ্যান জোন সাউথ, রজার্স ফ্যান জোন এবং আরবিসি রেড কার্পেট গ্যালারি। এই এলাকাগুলোতে প্রবেশের জন্য ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে রিস্টব্যান্ড দেওয়া হয়। ১০ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে লাইনআপের ব্যবস্থা খোলা রাখা হয়েছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে উৎসবের শেষ পর্যন্ত সেই সময় পরিবর্তন করে দুপুর ২টা করা হয়।

সব মিলিয়ে এবারের টিফ শুধু নতুন সিনেমার প্রদর্শনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রেড কার্পেট, তারকাদের উপস্থিতি এবং দর্শকদের জন্য বিশেষ ফ্যান জোন সব মিলিয়ে টরন্টোর এন্টারটেইনমেন্ট ডিস্ট্রিক্ট ১০ দিন ধরে পরিণত হয়েছিল আন্তর্জাতিক সিনেমার এক বড় মিলনমেলায়। ৫১তম আসরে বিপুল সংখ্যক চলচ্চিত্রের প্রদর্শনও উৎসবটির আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles