
বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার সংগ্রহ করে তার বড় একটি অংশ আত্মসাৎ এবং আগের বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধে নতুন বিনিয়োগকারীদের টাকা ব্যবহারের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিনিয়োগ উপদেষ্টা সিদ্ধার্থ জাওহারকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন মার্কিন ফুটবল তারকা ট্র্যাভিস কেলসিও। কেলসি সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটের স্বামী।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাওহার বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন। তবে এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি।
মিসৌরির আদালত জাওহারকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৩ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত তার কর্মকাণ্ডকে গুরুতর প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সুযোগ নিয়ে তিনি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
যেভাবে প্রতারণা করতেন
২০১০ সালে ‘সুইফটআর্ক ক্যাপিটাল এলএলসি’ নামে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন জাওহার। শুরুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করলেও ২০১৫ সালের পর তিনি গ্রাহকদের প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্থ একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে থাকেন।
পরবর্তীতে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য ব্যাপকভাবে কমে গেলেও বিনিয়োগকারীদের বিষয়টি জানাননি জাওহার। বরং তাদের কাছে শেয়ারের মূল্য বেশি দেখিয়ে ভুয়া মুনাফার তথ্য উপস্থাপন করতেন।
একপর্যায়ে আগের বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে এবং নতুন বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করতে নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ব্যবহার শুরু করেন তিনি। এ ধরনের প্রতারণামূলক পদ্ধতিকে সাধারণত ‘পনজি স্কিম’ বলা হয়।
বিলাসী জীবনযাপনে বিনিয়োগকারীদের অর্থ
অভিযোগ অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের অর্থের একটি অংশ নিজের বিলাসী জীবনযাপনে ব্যয় করতেন জাওহার। ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার, দামি হোটেলে থাকা, অস্টিন ও নিউইয়র্কে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ নেওয়া এবং নামী রেস্তোরাঁয় অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিষেধাজ্ঞার পরও থামেননি
২০২২ সালের জুনে টেক্সাস স্টেট সিকিউরিটিজ বোর্ড জাওহারের বিনিয়োগ কার্যক্রমের অনুমতি বাতিল করে এবং তাকে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেই নিষেধাজ্ঞার তথ্য গোপন রেখে নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ চালিয়ে যান।
এমনকি নিষেধাজ্ঞা জারির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে আরও ১০ লাখ ডলার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সেন্ট লুইসের একটি গ্র্যান্ড জুরি জাওহারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ আনে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেন। পরে আদালত তাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেন।

