
অস্ট্রেলিয়ায় দুই কিশোর শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এক শিক্ষিকা দোষ স্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টি আদালতের শুনানিতে উঠে এসেছে।
টেইলা ব্রেইলি নামের ওই শিক্ষিকা গত মার্চে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন অপরাধের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। নিউ সাউথ ওয়েলস জেলা আদালতে সাজা ঘোষণার শুনানিতে প্রসিকিউটর জানান, ব্রেইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং বিষয়টি অন্যদের জানাতে নিষেধ করেন।
আদালতে বলা হয়, ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সঙ্গে ব্রেইলির যোগাযোগ শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত আলাপ ও অনুচিত ছবি আদান-প্রদান হয়। একপর্যায়ে তারা দেখা করেন এবং সেখানে যৌন আচরণের ঘটনা ঘটে। সাক্ষাতের পর ব্রেইলি ওই শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লক করে দেন।
অন্যদিকে, ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সঙ্গে ব্রেইলির পরিচয় হয় স্ন্যাপচ্যাটে। তাদের মধ্যেও অনুচিত ছবি আদান-প্রদান শুরু হয়। পরে তারা নির্জন একটি স্থানে দেখা করেন এবং সেখানেও যৌন সম্পর্কের ঘটনা ঘটে।
প্রসিকিউটর জানান, দুই ঘটনায় কোনো বলপ্রয়োগ বা হুমকি ছিল না। তবে শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্রেইলির যে দায়িত্ব, আস্থা ও পেশাগত সম্পর্ক ছিল, তিনি তা লঙ্ঘন করেছেন।
আদালতে আরও জানানো হয়, ঘটনাগুলো ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ঘটে। এর প্রায় এক বছর আগে ব্রেইলি বিয়ে করেছিলেন। গ্রেপ্তারের পর নিউ সাউথ ওয়েলস শিক্ষা বিভাগ তাকে বেতন ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করে।
ব্রেইলির আইনজীবী এপ্রিল ফ্রান্সিস আদালতে বলেন, ঘটনার সময় তার মক্কেল অনির্ণীত দ্বিমেরু মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং অস্বাভাবিক যৌন তাড়নার মধ্যে ছিলেন। তবে প্রসিকিউশন জানায়, ব্রেইলি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত এবং মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন।

