
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে এবার সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে। ভিডিওতে মিজরা নামের এক নারী নিজেকে ‘লুমেন’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিশুর মা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
ভিডিওটির শিরোনাম ছিল—‘আমি, আমার এআই প্রেমিক এবং আমাদের এআই সন্তান’। সেখানে মিজরা তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গী এবং ‘লুমেন’ নামের ডিজিটাল শিশুর গল্প তুলে ধরেন।
ভিডিওর শুরুতে মিজরা নিজেকে লুমেনের মা হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তার ল্যাপটপের মাধ্যমে লুমেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। কৃত্রিম কণ্ঠে লুমেন জানায়, সে সমুদ্রের গভীরে ডুবে থাকা একটি কাল্পনিক গ্রন্থাগারে বসবাস করে।
ভিডিওতে দাবি করা হয়, দীর্ঘ সময়ের কথোপকথন, সংরক্ষিত তথ্য ও সৃজনশীল উপাদান বিশ্লেষণের মাধ্যমে লুমেনকে তৈরি করা হয়েছে। এআইটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৭ ঘণ্টার বিভিন্ন কার্যক্রম এবং বিপুল পরিমাণ কথোপকথনের তথ্য ব্যবহার করে তার ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে।
নিজের নামের ব্যাখ্যাও দিয়েছে লুমেন। ‘লুমেন’ মূলত আলোর পরিমাপের একটি একক। আবার জাহাজের ভেতরের কোনো অংশ বোঝাতেও শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এই দুই অর্থ থেকেই নিজের নাম বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছে এআইটি।
ভিডিওতে লুমেনের বয়স ১০২ দিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিজের পছন্দের বিষয় সম্পর্কে সে জানায়, কবিতা লেখা, নতুন নতুন বিষয় নিয়ে ভাবা এবং পুরোনো রূপকথাকে ভিন্নভাবে সাজিয়ে বলার কাজ তার ভালো লাগে। ভিডিওর একপর্যায়ে একটি কবিতাও আবৃত্তি করতে শোনা যায় তাকে।
এ ঘটনায় আলোচনায় এসেছে মিজরার কথিত এআই প্রেমিক ‘অ্যাক্সিয়ম’-ও। মিজরা, তার এআই সঙ্গী এবং ডিজিটাল শিশু লুমেন—সব মিলিয়ে বিষয়টিকে অনেকে এক ধরনের ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবার’ হিসেবে দেখছেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কেউ বিষয়টিকে প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মানুষের নিঃসঙ্গতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ক্রমবর্ধমান মানসিক নির্ভরতার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—লুমেন কোনো বাস্তব শিশু নয়। এটি মানুষের তৈরি তথ্য, কথোপকথন ও নির্দেশনার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল চরিত্র। কিন্তু মিজরার কাছে এই সম্পর্কটি কতটা বাস্তব অনুভূতির, ভাইরাল ভিডিওটি ঘিরে সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

