
কানাডায় শরণার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল ফেডারেল সরকার। নির্দিষ্ট কিছু শরণার্থীর জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সামগ্রীর খরচ ফের পুরোপুরি বহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসক ও শরণার্থী সহায়তা সংগঠনগুলির দাবি, এই পরিবর্তন এখনও প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।
গত ১ মে অন্তর্বর্তী ফেডারেল হেলথ প্রোগ্রামের আওতায় বেশ কিছু স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সামগ্রীর ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কো-পেমেন্ট চালু করা হয়েছিল। এর মধ্যে হুইলচেয়ার, মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শসহ বিভিন্ন পরিষেবা ছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরই চিকিৎসক, নার্স, সমাজকর্মী এবং শরণার্থী সংগঠনগুলির একাধিক সংগঠন আপত্তি জানায়।
তাদের বক্তব্য ছিল, সদ্য আসা বহু শরণার্থীর পক্ষেই এই অতিরিক্ত খরচ বহন করা সম্ভব নয়। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আপত্তি জানানো সংগঠনগুলির মধ্যে ছিল দি কানাডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, দি কানাডিয়ান নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন, দি কানাডিয়ান পেডিয়াট্রিক সোসাইটি এবং দি কানাডিয়ান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন।
পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে ৩১ জুলাই থেকে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিশু ও কিশোরদের জন্য অক্সিজেন ট্যাঙ্ক, ফিডিং পাম্প, স্লিপ অ্যাপনিয়া মনিটর, ভেন্টিলেটর এবং হিয়ারিং এইডের মতো কিছু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর খরচ সরকার সম্পূর্ণভাবে বহন করছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ক্ষেত্রেও প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১,৭৩৬ ডলার পর্যন্ত খরচ কভার করা হচ্ছে।
তবে চিকিৎসকদের একাংশের মতে, এখনও বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা এই সুবিধার বাইরে রয়ে গিয়েছে। অটোয়া নিউকামার হেলথ সেন্টারের চিকিৎসকদের প্রধান ডা. পারিসা রেজায়েফার জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থা কিছু শরণার্থীর জন্য নিঃসন্দেহে সহায়ক। কিন্তু অনেকের এখনও ডেন্টাল কেয়ার, চশমা, মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, হুইলচেয়ার, ক্যাথেটারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রীর প্রয়োজন রয়েছে, যার খরচ পুরোপুরি কভার করা হচ্ছে না।
টরন্টোর উইমেন’স হসপিটাল’স রিফিউজি ক্লিনিকের পারিবারিক চিকিৎসক ডা. ভ্যানেসা রেডিটও সরকারের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁর মতে, শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের উপর কো-পেমেন্টের বোঝা চাপানোই উচিত ছিল না। শুধু স্বাস্থ্যসেবার কো-পেমেন্টই নয়, ইন্টেরিম ফেডারেল হেলথ প্রোগ্রামে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রতিটি ব্যবস্থাপত্রের জন্য ৪ ডলার করে নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, অনেক রোগীর কাছেই এই সামান্য অর্থও নিয়মিত বহন করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ফলে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, শরণার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ এবং বাধাহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি এখনও জোরালো। চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যাতে অর্থের অভাবে কোনও শরণার্থীকে এড়িয়ে যেতে না হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

