
ফুসফুসের ক্যান্সার বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ক্যান্সার
ফুসফুসের ক্যান্সার বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ক্যান্সার। তবে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই কিছু সতর্ক সংকেতকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
যেসব লক্ষণ খেয়াল রাখবেন
তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী কাশি: দীর্ঘদিন কাশি থাকলে বা কাশির ধরনে পরিবর্তন এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কাশি বা থুথুর সঙ্গে রক্ত: অল্প পরিমাণ রক্তও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট: সিঁড়ি ভাঙা বা স্বাভাবিক হাঁটাচলায় অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
বুক বা কাঁধে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: কাশি বা গভীর শ্বাসে ব্যথা বেড়ে গেলে তা অবহেলা করবেন না।
কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত ক্লান্তি: ক্ষুধামন্দা, ওজন হ্রাস এবং দীর্ঘদিন ক্লান্তি ক্যান্সারের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
× ধূমপায়ী ব্যক্তি
× পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকা মানুষ
× বায়ুদূষণের মধ্যে বসবাসকারী
× অ্যাসবেস্টস, সিলিকা বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে কর্মরত ব্যক্তি
× রেডন গ্যাসের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি
× পরিবারে ফুসফুসের ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে
তবে মনে রাখা জরুরি, ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত অনেকেই কখনো ধূমপান করেননি।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
উপরের কোনো লক্ষণ দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে, বিশেষ করে কাশির সঙ্গে রক্ত, শ্বাসকষ্ট বা অকারণে ওজন কমে গেলে দ্রুত একজন বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে চিকিৎসক বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচার, ওষুধ, রেডিওথেরাপি বা অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
মনে রাখবেন: এসব লক্ষণ থাকলেই যে ফুসফুসের ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়। সংক্রমণ, যক্ষ্মা, হাঁপানি বা অন্যান্য ফুসফুসের রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

